ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে অপহরণের ঘটনায় আমির রহিম জাব্বার লাজিম নামের এক ব্যক্তিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় ইরাকের সেন্ট্রাল ক্রিমিনাল কোর্ট এই রায় প্রদান করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি অপহরণের সময় ব্যবহৃত গাড়ি সরবরাহ ও চালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে গত ৩১ মার্চ বাগদাদের সাদুন স্ট্রিট থেকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের পর গাড়ি পরিবর্তন করে পালানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে আটক করে। প্রায় এক সপ্তাহ বন্দি থাকার পর ৭ এপ্রিল কিটলসন মুক্তি পান। তৎকালীন ইরাকি সরকারের অবস্থানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অবিলম্বে ইরাক ত্যাগের শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিটলসনের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে ইরাকি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
মুক্তির পর কিটলসন ইরাকি বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আদালতের সাম্প্রতিক এই রায়ের ফলে তিনি দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করার আইনি সুযোগ পেতে পারেন বলে বিচার বিভাগীয় নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। কিটলসনকে অপহরণের ঘটনায় এই কঠোর সাজা ইরাকের বিচারব্যবস্থায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের জবাবদিহির আওতায় আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে একসময় অপহরণের ঘটনা বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট হিসেবে দেখা দিলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে সাংবাদিক ও বিদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এই রায় ইরাকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের রাজনীতি ও নিরাপত্তায় প্রভাব বিস্তারকারী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে তাদের টানাপোড়েন চলছে। আরব নিউজ, দ্য ন্যাশনাল, দ্য নিউ আরব, স্কাই নিউজ ও আল-মনিটরের তথ্যানুযায়ী এই রায় দেশটির বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








