রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আবাহনী ও ধানমন্ডি মাঠ: ব্যবস্থাপনায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

প্রকাশ:

রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠ ও ধানমন্ডি মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এখন থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের। মাঠ দুটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের ক্রীড়া ক্লাবগুলো যেভাবে রাজনৈতিকীকরণের কবলে পড়েছিল, সরকার সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। মাঠগুলোকে কোনো নির্দিষ্ট ক্লাব বা গোষ্ঠীর একক নিয়ন্ত্রণে না রেখে শিশু, তরুণ, নারী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে খেলোয়াড় তৈরির পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। চুক্তি অনুযায়ী, এখন থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যৌথভাবে মাঠ দুটির দেখভাল করবে। তবে মাঠ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরাসরি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কাজ করবে নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে তা হবে, কিংবা ব্যবহারের সময়সূচি বা ফি-সংক্রান্ত বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি।

আবাহনী মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদী ইজারা নিয়ে পরিচালনা করছিল আবাহনী লিমিটেড। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে আবাহনী লিমিটেড ৯ দশমিক ৭৬ একর জমির জন্য ৯৯ বছরের ইজারা চেয়ে আবেদন করে। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে মাঠের সিংহভাগ এবং ২০১০ সালে আরও শূন্য দশমিক ৮৯ একরসহ মোট ১০ দশমিক ৬৫ একর জমি তাদের ইজারা দেওয়া হয়। তবে ইজারার অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে পরিশোধ না করা এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় সরকারের পক্ষ থেকে মাঠটি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ইজারার শর্তে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের অপর মাঠটির ব্যবস্থাপনা নিয়েও নানা বিতর্ক ছিল। মাঠটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে থাকলেও দীর্ঘসময় সেটি শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল, যা পরে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব হিসেবে পরিচিতি পায়। এই মাঠটিতেও বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করার অভিযোগ উঠেছিল।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, আবাহনী মাঠে থাকা বিদ্যমান জিমনেসিয়াম, বাস্কেটবল কোর্ট ও ক্লাব টেন্টগুলো ভেঙে না ফেলে সংস্কার করা হবে। এছাড়া আর্চারি, শুটিং, ফুটসাল, প্যাডেল ও পাঁচজনের হকি খেলার উপযোগী টার্ফ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উন্নয়ন কার্যক্রম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি মডেলে সম্পন্ন করার চিন্তা করা হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানান, তাদের মালিকানাধীন অন্যান্য মাঠগুলোও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তরের বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ধানমন্ডির মাঠ দুটির উন্নয়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্য মাঠগুলোতেও বহুমুখী ক্রীড়া কমপ্লেক্স তৈরি করা সম্ভব হবে, যা শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন খেলার সুযোগ উন্মুক্ত করবে। ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল মাঠ তৈরির সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিশু, তরুণ, নারী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যাতে নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাঠের মূল উদ্দেশ্য খেলাধুলা এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সুযোগ—এটি অক্ষুণ্ন রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ভালো অবকাঠামো ও পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের মাঠটির ব্যবস্থাপনাও এত দিন ভিন্ন ছিল।

শেয়ার করুন