ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিখোঁজের ২৪ দিন পর উদ্ধার দেহাবশেষ, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ:

ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিখোঁজের ২৪ দিন পর মো. রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামের এক যুবকের মাথার খুলি, হাড় ও পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইটভাটায় কাজ বন্ধ থাকায় রাশেদুল বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে স্থানীয় জসিম উদ্দিন তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যান, এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পরদিন ১৩ আগস্ট রাশেদুলের বাবার কাছে একটি ফোন আসে, যেখানে এক নারী কণ্ঠ রাশেদুলকে অপহরণের কথা জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এ সময় পরিবারকে টাকা পরিশোধের জন্য দুই ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে মোবাইলে একাধিক মেসেজ পাঠানো হয়।

ঘটনার পর রাশেদুলের বাবা ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট জসিমকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে ডিজিটাল তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ সেপ্টেম্বর নেত্রকোণার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে প্রধান আসামি জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রাম থেকে রফিক ওরফে রফিদ (২৮) এবং মোজাম্মেল হোসেন (২৭) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে প্রায় ১০ হাত ব্যাসার্ধের একটি জায়গা থেকে মানবদেহের বিভিন্ন হাড়, একটি মাথার খুলি এবং পোশাক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পোশাক দেখে রাশেদুলের বাবা দেহাবশেষটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।

ফুলপুর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন জানিয়েছেন, উদ্ধার করা দেহাবশেষের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংরক্ষণের কাজ চলছে। নিহতের পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করতে এবং মৃত্যুর কারণ জানতে দেহাবশেষ মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের পরই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ফুলপুর উপজেলার কুকাইল এলাকার রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৪), একই এলাকার ছাবেদ আলী ওরফে মিঠুর ছেলে রফিক ওরফে রফিদ (২৮) এবং মৃত আ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইটভাটায় কাজ বন্ধ থাকায় কিছুদিন ধরে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন রাশেদুল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার ঘনিষ্টতা তৈরি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফোনের অপর প্রান্ত থেকে এক নারী কণ্ঠে জানানো হয় রাশেদুলকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরবর্তীতে কয়েক দফায় মোবাইলে মেসেজও পাঠানো হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

শেয়ার করুন