২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা যে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকারের পতনের এক দফার আন্দোলনে রূপ নেবে, তা ২ আগস্ট পর্যন্ত অনেকের কাছেই ছিল অকল্পনীয়। ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। এরপর ১৬ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে চলা সহিংসতা ও ক্ষয়ক্ষতির তদন্তে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। জুলাইয়ের শেষ দিকে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ১ আগস্ট আন্দোলনকারীরা ২ আগস্ট দেশব্যাপী গণমিছিলের ডাক দেয়। ওইদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানায়, কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় অন্তত ৩২টি শিশু নিহত হয়েছে।
৩ আগস্ট (শনিবার) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি সমাবেশের ডাক দেয় এবং সেই সমাবেশ থেকেই মূলত শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশে আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, ‘এ সরকারের কোনোভাবেই আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করলেই হবে না; বরং খুন, লুটপাট, দুর্নীতি এদেশে হয়েছে তার বিচার হতে হবে। আমরা পদত্যাগ দিয়ে তাকে এক্সিট রুট দিতে চাই না। তাকে পদত্যাগও করতে হবে, বিচারের আওতায়ও আনতে হবে।’
ওইদিন আন্দোলনকারীরা সরকারের পতনের দাবি তুলে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করে, প্রথমে যার তারিখ ছিল ৬ আগস্ট। কিন্তু পরদিনই সেটিকে এগিয়ে ৫ আগস্ট করার ঘোষণা দেন তারা। এর মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শেখ হাসিনাবিরোধী জনস্রোত যখন ঢাকায় ঢুকছিল, তখন থেকেই সেনাবাহিনীর দিক থেকে বলা হচ্ছিল যে ‘আপনারা নিবৃত্ত থাকুন, শান্ত থাকুন- সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন’। কিন্তু পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিল না তারা। শেষ পর্যন্ত ওই ৫ আগস্ট কারফিউর মধ্যেই ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং দুপুর নাগাদ সামরিক বাহিনীর উড়োজাহাজে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।
রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্নজনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেলা ৪টার দিকে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন।’ প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের দাবি থেকে শুরু হয়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগ পর্যন্ত এই সময়কালে তীব্র আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তিপ্রয়োগ ও সহিংসতায় সরকারি হিসেবেই মৃত্যুর সংখ্যা ৮০০-এর বেশি। অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) তদন্ত প্রতিবেদনে জুলাই-আগস্টে ১৪০০ জনের মতো নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সহিংসতার মধ্যেই তীব্র গণআন্দোলনে শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটেছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট।
ঢাকার ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় থানা ও ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরেও হামলার ঘটনা ঘটে। সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘অনতিবিলম্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে।’ তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা আগামী চব্বিশ ঘণ্টার একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাব করবেন এবং তাদের সমর্থিত বা প্রস্তাবিত ছাড়া কোনো সরকার তারা সমর্থন করবেন না। সতের দিন পর এসে ৬ আগস্ট ভোর থেকেই কারফিউ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় আইএসপিআর।
জুলাইয়ের শেষ দিকে এসে আরও তীব্র হয়ে ওঠে ছাত্র আন্দোলন। এর মধ্যেই সেটি ঢাকার বাইরেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে গণমিছিল কর্মসূচি পালিত হয় ২ আগস্ট। সেদিন গণমিছিলের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করে। ওইদিন দুপুরের পর থেকে এই এলাকায় নাহিদ ইসলামসহ আন্দোলনকারীদের ছয়জন সমন্বয়ক এক বিবৃতিতে সেদিন জানান যে তাদের ঢাকার ডিবি কার্যালয়ে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। ওইদিনই আন্দোলনকারীরা ৩ আগস্ট সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও ৪ আগস্ট থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়।
এইদিনই হত্যাকাণ্ডের বিচার, গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, কারফিউ প্রত্যাহার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয় শিক্ষার্থীরা। এদিন দুপুর থেকে মোবাইল নেটওয়ার্কে ফেসবুক ও টেলিগ্রাম বন্ধ করা হয়, যা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর আবার চালু হয়। সেদিন রাতে গণভবনে ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। এদিন সরকার পতনের এক দফা দাবি জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তারা জাতীয় সরকার গঠনের দাবিও জানায়। টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকারের কাছে বিচার চেয়ে কোনো লাভ নেই, কারণ সরকার নিজেই খুনি।’
সহিংসতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেনের কাছে চিঠি দেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ও চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় বিশাল সমাবেশ হয়। এছাড়া রংপুর, সিলেট, ফরিদপুর, রাজশাহী, বগুড়া, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, বরগুনা, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিনই শহীদ মিনারের বিশাল সমাবেশ থেকে সরকার পতনের এক দফার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ৪ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন ঘোষণা করা হয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগও মাঠে নামার ঘোষণা দেয়।
ছাত্র-জনতার দাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঢাকায় সেনা সদরে বিভিন্ন স্তরের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ওদিকে সেদিন গণভবনে একটি অনুষ্ঠানের পর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে আটক সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন’ চলাকালে সহিংসতায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মানুষ হতাহত হয়।
দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সাধারণ ছাত্র-জনতার মুখোমুখি না করার আহ্বান জানান সাবেক সেনাপ্রধান ও সেনা কর্মকর্তারা। এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে অবিলম্বে সেনা ছাউনিতে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং জনগণের ওপর গুলি চালানো বন্ধ করতে হবে।’ এই আহ্বানগুলো সরকারের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়ে। ৫ আগস্টের সকাল থেকেই জনস্রোত ঢাকার দিকে ধাবিত হতে থাকে এবং কোনো বাধাই তাদের রুখতে পারেনি।
৫ আগস্ট দুপুরের দিকে যখন খবর ছড়িয়ে পড়ে যে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন, তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো দেশ। ঢাকার রাজপথে সাধারণ মানুষ নেমে আসে এবং বিজয় মিছিল বের করে। গণভবন ও সংসদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে মানুষ প্রবেশ করে। এই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন ঘটায়নি, বরং দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
পরিশেষে, ৫ আগস্টের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি জোরালো হয়। জুলাই-আগস্টের এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে না দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে দেশ নতুন পথে যাত্রা শুরু করে, যেখানে ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধই হবে মূল ভিত্তি।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গণভবনের দরজা খোলা।
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘গুলি আর সন্ত্রাসের সঙ্গে কোনো সংলাপ হয় না।’
সহিংসতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেনের কাছে চিঠি পাঠান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২২ জন সেনেটর ও কংগ্রেসম্যান।
তাতে যোগ দেয় নানা শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও।
তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার গঠনেরও দাবি জানান।
সরকারি নির্দেশে মোবাইলে ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় অপারেটরগুলো।
এর মধ্যে সিরাজগঞ্জে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ জনই পুলিশ সদস্য বলে বাহিনীটি নিশ্চিত করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,ওইদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সব বিভাগীয় শহর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, শিল্পাঞ্চল, জেলা সদর ও উপজেলা সদরে সান্ধ্য আইন বলবৎ করা হলো।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন যারা নাশকতা করছে, তারা কেউ ছাত্র না, তারা সন্ত্রাসী।
তাদের শক্ত হাতে দমন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শুরুতে ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ পালনের কথা থাকলেও পরে সেটি একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট ঘোষণা করে আন্দোলনের নেতারা।
বলা হয়েছিল যে, এই সময় সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় শহীদমিনার সংলগ্ন বকশীবাজার, রামপুরা-বনশ্রী এবং বসুন্ধরাসহ ঢাকার কয়েকটি পয়েন্টে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।
সকালে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সামনের সড়ক সেনা সদস্যরা কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে রাখলেও এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা তা সরিয়ে রাজলক্ষ্মীর দিকে এগিয়ে যায়।
হাজার হাজার মানুষ হেঁটে, রিক্সা নিয়ে শাহবাগের দিকে যাচ্ছেন।
সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের কোনো বাধা দিচ্ছে না।
সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে তার হেলিকপ্টারে ওঠার সময়কার ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিবিসি জানতে পেরেছিল যে, তাকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টার ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
পরে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ‘সামরিক একটি হেলিকপ্টারে করে শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।’
দুপুরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সেনাপ্রধান।
এখন একটি ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট গঠন করে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করবো।
এর পরপরই উচ্ছ্বসিত আন্দোলনকারীরা গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবনের দখল নেয়।
ওই রাতেই জাতির উদ্দেশ্যে একটি ভাষণে তৎকালিন রাষ্ট্রপতি মো.
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করবে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থান
কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সূত্র: যুগান্তর








