ডারউইন টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশ দলের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা এখন অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক। তবে ম্যাকাই টেস্টের ভিন্ন কন্ডিশন এবং উইকেটের চরিত্র বিবেচনায় বাংলাদেশ দল পাঁচ দিন লড়াই করতে পারবে কি না, এমন এক প্রশ্নে কিছুটা অপ্রস্তুতই হয়ে পড়েছিলেন কোচ ফিল সিমন্স। অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিকদের করা এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে রসিকতা করে বলেন, ঈশ্বরই ভালো জানেন। তিনি আরও যোগ করেন, ঈশ্বর হয়তো এসে তাকে তা বলে দিতে পারেন, তবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ডারউইনের ৯ উইকেটের জয়টিকে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য হিসেবে দেখছেন সিমন্স। তিনি জানান, ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার মতো কঠিন সময়েও দলের কাজের ধরন বা পরিশ্রমের মাত্রায় কোনো ঘাটতি ছিল না। এই ধারাবাহিকতাই তাকে দলের সাফল্যের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। টেস্ট জয়ের ফলে দলের আত্মবিশ্বাস এখন অনেক উঁচুতে, যা ম্যাকাই টেস্টের আগে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
তবে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া যে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হবে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন কোচ। তিনি খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, অস্ট্রেলিয়া আরও কঠিনভাবে ফিরে আসবে। তাই পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখার পাশাপাশি অন্তত ১ শতাংশ উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। ক্যামেরন গ্রিনের মন্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ দল তাদের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে, যা বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।
ম্যাকাইয়ের উইকেট সবুজ, বাউন্সি এবং গতিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদেহী পেসারদের বাড়তি সুবিধা দেবে। তবে ডারউইনের উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামের দিকে বাড়তি নজর থাকলেও, জয়ী একাদশে খুব একটা পরিবর্তন আনার পক্ষপাতী নন সিমন্স। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।
ম্যাচের পরিকল্পনা সম্পর্কে কোচ কোনো রাখঢাক করেননি। তার মতে, মূল লক্ষ্য হলো ব্যাটিং। টেস্টের পাঁচ দিনে অন্তত ১১ ঘণ্টা ব্যাট করতে পারলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা সম্ভব। প্রথম ইনিংসে বড় রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলাই বাংলাদেশের প্রধান কৌশল।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের ভালো ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য এবং প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের সম্মান অর্জনের প্রত্যাশা—দুটোই অস্ট্রেলিয়া সফরে এখন পর্যন্ত পূরণ হয়েছে। সিমন্স মনে করেন, বিদেশের মাটিতে ভালো খেলে বাংলাদেশ দল নতুন করে সম্মান অর্জন করছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের পর থেকে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান ক্রমাগত বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দলের প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সিমন্স জানান, যদিও মুশফিকুর রহিমসহ কয়েকজন খেলোয়াড় আগে অস্ট্রেলিয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা পেয়েছেন, তবে বাকিদের নতুন কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে হয়েছে। ডারউইনের টপ এন্ড টি-টুয়েন্টির মতো টুর্নামেন্টগুলো এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমে নিজেদের কাজটা করে দেখানোই আসল চ্যালেঞ্জ।
ম্যাচপূর্ববর্তী অনুশীলনের সময় তানজিদ হাসানকে ব্যাটিং করতে দেখা যায়নি এবং মুশফিকুর রহিমের আঙুলে চোটের খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে ম্যাকাই টেস্টে নিজেদের সেরাটা দিয়ে সম্মান ধরে রাখাই এখন বাংলাদেশ দলের মূল লক্ষ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর এ রকম প্রশ্ন নিশ্চয়ই আশা করেননি সিমন্সও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিমন্সের মুখেই শুনুন তাঁর পুরো কথাটা, ‘আমি তো জানি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ডারউইনের জয় যে দলের মধ্যে উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস নিয়ে এসেছে, সেটি দেখেছেন সিমন্সও, ‘টেস্ট ম্যাচ জিতলে আত্মবিশ্বাস তো থাকবেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডারউইনে ৯ উইকেটে জেতা ম্যাচটিকে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারেরই সেরা টেস্ট জয় মনে করেন ফিল সিমন্স। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজ ম্যাকাইয়ে অনুশীলন শেষের সংবাদ সম্মেলনে সেটার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দিয়েছেন কোচ, ‘আমি দলের অনুশীলনগুলো দেখেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিন দিনের ম্যাচের আগে আমরা কীভাবে অনুশীলন করেছি, তা দেখেছি।
সূত্র: প্রথম আলো








