বন্ধুর মায়ের চিকিৎসায় সহপাঠীদের মানবিক উদ্যোগ, প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেল নাঈমের পরিবার

প্রকাশ:

এসএসসি পাসের আনন্দ উদযাপনের বদলে বন্ধুর মায়ের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে একদল শিক্ষার্থী। ক্যানসারে আক্রান্ত বন্ধু নাঈম সিকদারের মায়ের চিকিৎসার জন্য তারা নিজেদের জমানো ৪০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিল। ১৬ আগস্ট নাঈমের দাদা আবদুস সাত্তার সিকদারের হাতে এই অর্থ তুলে দেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়। শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নাঈমের মায়ের চিকিৎসার জন্য দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিদাস গ্রামের কলতান বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নাঈমের দাদার হাতে এই সহায়তার চেক তুলে দেন টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর রেজা এবং কলতান বিদ্যানিকেতনের পরিচালক আমিনুল ইসলাম।

নাঈমের মা লাইলি বেগম (৪৫) বর্তমানে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নাঈমের বাবা আবদুল সিকদার কয়েক মাস আগে ধারদেনা করে কাতারে পাড়ি জমালেও সেখানে এখনো কোনো কাজ পাননি। এমন চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে লাইলি বেগমের ক্যানসার ধরা পড়লে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়ে নাঈমের সহপাঠী ইমরান, জাহিদ ও আপনসহ অন্যরা মিষ্টি খাওয়ার টাকা বাঁচিয়ে বন্ধুর মায়ের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও এই মহৎ উদ্যোগে শামিল হন।

শিক্ষার্থীদের এই মানবিকতায় আপ্লুত বিদ্যালয়ের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, তাদের উদ্যোগটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসায় এবং পরিবারটি সরকারি সহায়তা পাওয়ায় বিদ্যালয়ের সবাই আনন্দিত। নাঈম সিকদার জানায়, মায়ের অসুস্থতা ও বাবার বেকারত্ব নিয়ে পুরো পরিবার যখন দুশ্চিন্তায় ছিল, তখন বন্ধুদের এই সহযোগিতা এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর এই অনুদান তাদের পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই ছোট্ট উদ্যোগই এখন নাঈম সিকদারের (১৬) পরিবারের বড় আশা হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাঈমের বন্ধু ইমরান, জাহিদ ও আপন আগেই বলেছিল, পাসের আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার চেয়ে সহপাঠীর মায়ের পাশে দাঁড়াতে পেরে তাদের বেশি ভালো লেগেছে।

শেয়ার করুন