সৌদি আরবের আকাশসীমায় হুতিদের ড্রোন হামলার চেষ্টার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। বুধবার জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, মক্কা চুক্তি এখন কার্যকর করার সময় এসেছে এবং পাকিস্তান এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পাকিস্তান এই চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে, তবে কৌশলগত কারণে চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো এই মুহূর্তে জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
খাজা আসিফের মতে, পবিত্র মক্কা নগরীর সুরক্ষার বিষয়টি কেবল কোনো চুক্তির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মক্কার পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষার জন্য আলাদা কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই; এটি মুসলিম হিসেবে পাকিস্তানের জন্য একটি ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। এর আগে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কার দক্ষিণ অংশে একটি হুতি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনি সামরিক জোটের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয় এবং এটি পবিত্র নগরীকে লক্ষ্য করে চালানো দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা ছিল।
তবে হুতি বিদ্রোহীরা এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি, তাদের পরিচালিত সামরিক অভিযানগুলো সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই চালানো হয়, যা ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলো থেকে ভৌগোলিকভাবে অনেক দূরে অবস্থিত। হুতিদের এই দাবি সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আরও প্রকট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজা ও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই সংঘাত নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বুধবার তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রিয়াদের সঙ্গে পাকিস্তান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মক্কার পবিত্র স্থাপনার বিরুদ্ধে চালানো এই ড্রোন হামলার প্রচেষ্টাকে তিনি জঘন্য ও ন্যক্কারজনক বলে অভিহিত করেছেন। যদি পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলো এই সংকটে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়, তবে আঞ্চলিক এই যুদ্ধের বিস্তৃতি বিশ্ব রাজনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রয়োজনে যদি চুক্তিবদ্ধ দেশগুলো পাশে না দাঁড়ায়, তবে সেই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন ওঠার ঝুঁকি থেকে যায়।
সূত্র: মানবজমিন








