লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বরাদ্দ করা মানবিক সহায়তার অর্থ বিতরণের তালিকায় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম থাকায় উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। গরিব, দুস্থ ও অসহায় ৪৮৬ জনের মধ্যে এ সহায়তা বিতরণ করা হলেও তাদের কয়েকজন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের পদে রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
রোববার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার। উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মোট ৪৮৬ জনের মধ্যে সর্বমোট ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সরকারি অর্থ গ্রহণকারীদের মধ্যে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সরাসরি অংশ নিতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন
- পৌর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী
- একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক
- স্থানীয় একজন যুবদল নেতা
- ছাত্রদলের এক ওয়ার্ড সভাপতি
সহায়তা গ্রহণের এসব ছবি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের একাংশ উপকারভোগী নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা এই সরকারি সহায়তার তালিকা তৈরির সময় কী ধরনের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিরা কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে এই তালিকায় স্থান পেলেন, তা নিয়ে সমালোচনা জোরালো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবির নিচে একজন মন্তব্য করেন, ‘এখানে গরিব কে?’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, দলীয় স্বচ্ছল কেউ সহায়তা পেয়েছেন কি না, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। এমপি তার মতো করে তালিকা করেছেন। যাদের দেওয়ার প্রয়োজন মনে হয়েছে, তাদেরই দিয়েছেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








