চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে সব ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গণ-অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব এবং প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তবে জরুরি প্রয়োজনে নিরাপত্তা শাখা ও মেডিকেল সেবা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে গত ২৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করা অধ্যাপক সায়েম মাত্র ৫৬ দিন এই পদে বহাল ছিলেন। কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ উল্লেখ না করেই হঠাৎ এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন, হল এবং শিক্ষক আবাসিক এলাকা ঘুরে উপাচার্য ভবনের সামনে এসে শেষ হয় এবং শিক্ষার্থীরা সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেন।
শিক্ষার্থীদের মতে, অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক ও একাডেমিক ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেছিলেন। তার শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ ক্যাম্পাসে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছিল। এমতাবস্থায়, কোনো দৃশ্যমান ব্যাখ্যা ছাড়া তাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে নতুন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে বহাল করার দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








