জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভাষণ তাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে। আলজাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা লন্ডন থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, এই ভাষণের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া প্রায় সব দেশই ইসরাইলের অবস্থান থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। তার মতে, নেতানিয়াহু এই বক্তব্যের মাধ্যমে বন্ধু তৈরির বদলে বরং বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন শত্রু তৈরি করেছেন। বিশেষ করে, যে সব প্রতিনিধি হলের ভেতরে তার বক্তব্য চলাকালে বের হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, তারা নেতানিয়াহুর কাছ থেকে নিজেদের ‘কাপুরুষ’ হিসেবে অভিহিত হওয়ার বিষয়টিকে অপমানজনকভাবে গ্রহণ করেছেন।
বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা আরও উল্লেখ করেন, আগের দুটি ভাষণের তুলনায় এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুশি করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরাইলি নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই তিনি এই ভাষণটি দিয়েছেন। ভাষণে তিনি জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বললেও মূল বার্তা ছিল ইসরাইলি জনগণের জন্য। নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই তিনি এমন কঠোর ও আক্রমণাত্মক সুর বেছে নিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়।
নেতানিয়াহুর ভাষণের সমালোচনা করে বিশারা প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে তিনি নিজেকে পশ্চিমা সভ্যতার রক্ষক হিসেবে দাবি করেন, যখন তিনি ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধেই আক্রমণাত্মক কথা বলেছেন? এছাড়া ঔপনিবেশিকতার ধারণা নিয়ে তার মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিশারা বলেন, যে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা তিনি করেছেন, তারা নিজেরাই ইসরাইলকে ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি কার্যত নিজেকে আরও একঘরে করেছেন, যেখানে এখন শুধুমাত্র ট্রাম্পের সমর্থনই তার ভরসা। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল পুরোপুরি বন্ধুহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি যেসব প্রতিনিধি অন্য সদস্যদের চাপের মুখে হল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, তারাও তার মুখে নিজেদের ‘কাপুরুষ’ হিসেবে অভিহিত হওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








