সিইসি জ্ঞানেশের পদত্যাগ ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে ১০ অক্টোবর

প্রকাশ:

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠন। আয়োজকদের ভাষ্যমতে, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। দাস বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও তারা আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না।

বুধবার আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)-সহ বেশ কিছু সংগঠন এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। আম আদমি পার্টির ছাত্র সংগঠন এএসএপি-ও এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে। ৬ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যদের নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে মিছিলে সমর্থন জানিয়ে নেতারা বলেন, এটি কেবল কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং বিজেপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। সংগঠনগুলো ৬ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যদের নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিলের প্রতি সমর্থন জানায়।

সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস দেশবাসীকে দিল্লিতে এসে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, লড়াইটি দীর্ঘ হতে পারে এবং কেবল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগই যথেষ্ট নয়। তাদের মূল দাবিনামায় রয়েছে কমিশনারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন স্থগিত, আসন্ন নির্বাচন বাতিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের ভোটার তালিকা পুনর্বহাল এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইনটি বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর দাবিও জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে রাস্তায় নামা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব।

আন্দোলনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সৌরভ দাস জানান, বুধবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মসূচির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি একে পুলিশের ‘অনুমতি’ নেওয়ার পরিবর্তে ‘তথ্য জানানো’ হিসেবে অভিহিত করতে অনুরোধ করেন। এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরা এই আন্দোলনে রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজ এখন নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপির বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।

এসএফআই নেতা আদর্শ শাজি চলমান পরিস্থিতিকে গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্রের লড়াই বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

এর আগে জুলাই মাসে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে সিজেপির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের জেরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন বলে দাবি করে সংগঠনটি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজপথে চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

শেয়ার করুন