হরমুজ প্রণালিতে দুই ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড

প্রকাশ:

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে এবং সেগুলোতে আগুন ধরে গেছে। প্রতিটি ট্যাঙ্কার প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। জাহাজ দুটির পরিচয় বা তেলের উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের প্রভাব পড়েছে তেল সরবরাহেও।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরনার তথ্যানুযায়ী, শনিবার প্রথম ট্যাঙ্কারটি নৌমাইনের ধাক্কায় বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ট্যাঙ্কারটিও একই ধরনের বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। আইআরজিসির দাবি, জাহাজ দুটি তাদের রাডার ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে ইরানের অনুমোদনহীন জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এর মধ্যে একটি ট্যাঙ্কার যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এই পথ অতিক্রম করছিল বলে আইআরজিসির অভিযোগ। ইরানের দাবি, নিজেদের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং গত মাসে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা হামলা জোরদার করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার প্রথম ট্যাংকারটি নৌমাইনে আঘাত করলে বিস্ফোরণ ঘটে।

চলতি মাসের শুরুতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে জাহাজে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউকেএমটিওর তথ্য মতে, গত রোববার এর কাছাকাছি এলাকায় অন্তত ছয়টি জাহাজ হামলার শিকার হয়। ইরান সরকারের ভাষ্যমতে, মার্কিন অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় তারা এই অঞ্চলে কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে। বর্তমানে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে ইরানের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে জাহাজে হামলার এটাই ছিল সর্বোচ্চ ঘটনা।

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এই অস্থিরতার কারণে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কেপলারের তথ্যমতে, গত ৮ অক্টোবর এই পথ দিয়ে ২ কোটি ৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হলেও ১১ অক্টোবর তা মাত্র ২৯ লাখে নেমে আসে। সরবরাহের এই ধস আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে। ১১ অক্টোবর তা কমে দাঁড়ায় ২৯ লাখ ব্যারেলে।

এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি ইরানে কোনো প্রকার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন না। নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দেশটিতে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনাও সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটি চুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। তিনি বলেন, ‘না, আমি তা দেখছি না, এমনটা ভাবছিও না।

এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তেহরান। আইআরজিসির নৌ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী আজমাই সতর্ক করে দিয়েছেন যে, নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রাখা যেকোনো জাহাজকে ইরান ‘শত্রু’ হিসেবে গণ্য করবে। অন্যদিকে, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ওমান উপসাগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত এলাকায় দুটি ট্যাঙ্কারে আগুনের খবর পাওয়া গিয়েছিল। এ ছাড়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকেরা শুক্রবার সৌদি আরবের উপকূলসংলগ্ন উপসাগরীয় জলসীমায় দুটি ট্যাংকারে হামলার খবর দিয়েছেন।

শেয়ার করুন