বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মামুন নামের এক গাড়িচালকের বাঁ চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। যাত্রাবাড়ী থানার এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা আওলাদ হুসাইন গত ৩০ সেপ্টেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মামুন (২৫) নামের এক গাড়িচালকের বাঁ চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি হয়। আবেদনে বলা হয়, আনিসুল ও পলক অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
আদালতের কার্যক্রম শুরু হয় বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে যখন দুই আসামিকে হাজতখানা থেকে আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তাঁদের কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং শুনানি শেষে বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে বিচারক আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন আদালতকে জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা এবং ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনায় জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাঁদের গ্রেপ্তার প্রয়োজন ছিল। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁরা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
শুনানিকালে কাঠগড়ায় পলককে বাঁ হাত মুখে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, আনিসুল হককে আরেক মামলার আসামি মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনের সঙ্গে কথোপকথনরত অবস্থায় দেখা গেছে। বিচারক এ সময় সতর্ক করে বলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো আইনজীবী মক্কেলের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না।
পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন শুনানিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে যুক্তি দেন যে, এজাহারে পলকের নাম নেই এবং ঘটনার সাত মাস পর মামলাটি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলায় সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাল্টা জবাবে বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করার মাধ্যমে পলক আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর নিপীড়নের মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন ছিলেন এবং আনিসুল হক ছিলেন তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তের অন্যতম অংশীদার।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনিসুল হকের কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করেন যে, তাঁর আমলে রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিরোধীদের বিচারকার্য পরিচালনা করা হতো। এছাড়া পলকের নির্দেশে জুলাই মাসে দেশজুড়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়। শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়া থেকেই পলক পিপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, তাঁদের অবস্থানের দূরত্ব খুব বেশি নয়। পিপির উদ্দেশে পলক বললেন, ‘তাঁর ওই স্থান থেকে আমার এই স্থানের দূরত্ব বেশি নয়’।
একই আদালত এদিন আরেকটি মামলার শুনানি গ্রহণ করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পাপ্পু চৌধুরী হত্যা মামলায় নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই সৌমিত্র সরকার। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
নির্ধারিত শুনানি শেষ হওয়ার পর পুলিশি নিরাপত্তায় আসামিদের আদালত ভবনের সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে পুনরায় হাজতখানায় নেওয়া হয়। আনিসুল হক ও জুনাইদ আহ্মেদ পলকসহ মোট পাঁচজনকে এই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: প্রথম আলো








