রাজধানীর হাজারীবাগে শিকদার মেডিকেল কলেজসংলগ্ন এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান গুদাম ও কার্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শতাধিক ব্যক্তির একটি দল অতর্কিত এই হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা হেলমেট ও মুখোশ পরিহিত ছিল। তারা প্রথমে কার্যালয়ের আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করে দেয়। এরপর দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, হামলাকারীরা গুদামের ভেতরে ঢুকে ডিভিআর মেশিনসহ গুরুত্বপূর্ণ সিসি ক্যামেরা খুলে নেয়। ভাঙচুরের পাশাপাশি তারা কার্যালয়ের আসবাবপত্র তছনছ করে এবং বেশ কিছু ল্যাপটপসহ কয়েক লাখ টাকার পণ্য লুট করে নিয়ে যায়। প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় চারশ গাড়ি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহন করে থাকে, তবে এই হামলার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কার্যালয়টি থেকে প্রতিদিন ৪০০ গাড়ি সারা দেশে পণ্য আনা নেওয়ার কাজ করে।
এ জে আর গ্রুপের ভাষ্যমতে, প্রায় দুই বছর আগে চুক্তির ভিত্তিতে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে জমিটি ভাড়া নেওয়া হয় এবং নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করা হচ্ছে। কিন্তু হামলাকারীদের দাবি, তারা শিকদার গ্রুপের মালিকপক্ষের সাথে কথা বলেছে এবং এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দিতে হবে। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটিকে আর ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও তারা প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করে। চুক্তি অনুযায়ী এত দিন শিকদার গ্রুপকে ভাড়া দিয়ে আসছিল তারা।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই ৯৯৯ নম্বর থেকে কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, সন্ত্রাসীরা শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম ব্যবহার করে এই হামলা ও হুমকি দিয়েছে। পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। কাউকে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সূত্র: মানবজমিন








