৩১০ বছরের পুরনো মন্দিরে শিকড়ের টানে ওপার বাংলার স্বজনরা

প্রকাশ:

ঢাকার নবাবগঞ্জের বর্ধনপাড়ায় অবস্থিত বড় পালবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরটি প্রায় ৩১০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যের সাক্ষী। মহা অষ্টমীর সকালে মন্ত্রোচ্চারণ ও ঢাকের বাদ্যে মুখর এই প্রাঙ্গণে দেবীর চরণে অঞ্জলি দিতে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয় ভক্ত ও দূরদূরান্ত থেকে আসা স্বজনরা। এবারের পূজায় স্থানীয়দের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগর ও কোচবিহার থেকে আসা অতিথিদের উপস্থিতি উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় ৩১০ বছরের পুরোনো এই মন্দিরে অষ্টমীর সকালে এসেছেন স্থানীয় ভক্তরা। সকালে অঞ্জলির সময় দুজনকেই প্রার্থনায় মগ্ন দেখা যায়।

ভারতের চন্দননগর থেকে আসা ৪৩ বছর বয়সী ইতি পাল দীর্ঘ এক যুগ পর পূর্বপুরুষের এই মন্দিরে ফিরেছেন। কলকাতার জমকালো পূজার চেয়েও তাঁর কাছে ইছামতী নদীর তীরের এই পুরনো স্মৃতির টান বেশি। তিনি জানান, কয়েক দিন থেকে দশমীর উৎসব শেষ করেই তাঁরা ফিরে যাবেন। অন্যদিকে, ৩৮ বছর পর নিজ শিকড়ে ফেরা কোচবিহারের যদুনাথ পাল ও তাঁর স্ত্রী হেনা পাল অঞ্জলি শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। গ্রামের অনেক কিছু বদলে গেলেও পুরনো আমেজ এখনো তাঁদের আনন্দ দিচ্ছে বলে জানান যদুনাথ। তাঁদের অনেকের কাছে এখানে আসা কেবল পূজা দেখা নয়, ফেলে যাওয়া শিকড়ের কাছে ফেরা। এক যুগ পর তিনি এসেছেন দিদির বাড়িতে, পূর্বপুরুষের এই মন্দিরের পূজায় অংশ নিতে। ইছামতী নদীর পারের পুরোনো স্মৃতি তাঁকে বারবার টানে।

পূজা কমিটির সভাপতি শ্যামল পাল জানান, নবাবগঞ্জে এবার ২০১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে বড় পালবাড়ি মন্দিরটির দীর্ঘ তিন শতাব্দীর ইতিহাস ভক্তদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি অতিথি ও স্বজনদের পদচারণায় এবারের পূজা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে এবং প্রশাসনসহ স্থানীয় সবার সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। সেই কবে এসেছি, তা যেন ভুলে যাওয়ার মতোই। তিন শতাব্দীর ইতিহাস বুকে নিয়ে মন্দিরটি আজও দুর্গোৎসবের ধারা ধরে রেখেছে।

মন্দিরে এদিন সকাল থেকেই নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে শৃঙ্খলা বজায় রেখে ভক্তরা নিজের ও পরিবারের কল্যাণ এবং শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন। অঞ্জলি শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণে সময় কাটান, যা দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ ও স্বজনদের সাথে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। কেউ চান শান্তি ও সমৃদ্ধি, কেউ দেশ ও মানুষের কল্যাণ। ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও দুর্গাপূজার টান যে মানুষকে একই উৎসবের বন্ধনে যুক্ত করে, তারই প্রতিফলন দেখা গেছে মন্দির প্রাঙ্গণে।

শেয়ার করুন