শরীয়তপুরে এমপির নেতৃত্বে ইলিশ রক্ষা অভিযান

প্রকাশ:

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে জেলেদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোরে পালেরচর ইউনিয়নের কলিকাল চর এলাকায় এই সংঘাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন। এই অভিযানে শরীয়তপুর-১ (সদর ও জাজিরা) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ নিজে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। হামলার সময় তিনি মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছুটা দূরত্বে স্পিডবোটে অবস্থান করছিলেন। অভিযানে ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে এবং দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। তখন সেখানে আমাদের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানিয়েছেন, মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। এই সময়ে ইলিশ ধরা, বিপণন ও পরিবহন নিষিদ্ধ। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অসাধু জেলেরা পদ্মা নদীর জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ অংশে ইলিশ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৩৩ হাজার নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ২৮ হাজার ৯২৯ জন ইলিশ ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে এসব জেলেকে খাদ্যসহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এরপরেও আইনের তোয়াক্কা না করে মাছ শিকার করায় গত ১০ দিনে ২০টি অভিযানে ৭২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন জেলেকে নদীর চরের মধ্যে ঘিরে রাখা হয়। তাঁদের মধ্যে ইলিশ শিকার ও বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন ২৮ হাজার ৯২৯ জন।

সোমবার ভোরে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের শফি কাজীর মোড় থেকে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। পালেরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর উত্তর প্রান্তে পৌঁছালে শতাধিক জেলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অভিযান দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে ৪১ জন জেলেকে আটক করেন। এ প্রসঙ্গে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে এবং বিস্তারিত পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে। আমরা আজকের অভিযান থেকে ৪১ জনকে আটক করেছি। তাঁরা ফিরে এলে প্রকৃত ঘটনা বিস্তারিত জানা যাবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত রোববার চাঁদপুর-৩ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মেঘনা নদীতে সরাসরি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি স্পিডবোটযোগে টহল দিয়ে নিষিদ্ধ জাল ও নৌকা জব্দ করেন এবং জেলেদের কঠোর বার্তা দেন।

শরীয়তপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জেলার অন্তত ২৫টি স্থানে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এবং ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইলিশ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য নিজে এই অভিযানে নামেন। আটক হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মৎস্য কর্মকর্তারা। ইলিশ কিনতে দিন-রাত ক্রেতাদের ভিড়ও হচ্ছে।

শেয়ার করুন