দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা ও দিল্লির বার্তা
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শীর্ষপর্যায়ের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান, অভিন্ন ইতিহাস, বিস্তৃত বাণিজ্য এবং দীর্ঘ সীমান্ত অঞ্চলের কারণে দুই দেশের সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অবিশ্বাসের বরফ গলিয়ে নতুন করে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ এখন তৈরি হয়েছে। নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পর ঢাকার নেতৃত্বের সঙ্গে দিল্লির যোগাযোগের ধরণেও সেই নতুন ইঙ্গিত প্রকাশ পাচ্ছে। দিল্লির কোথাও একটি করমর্দন অপেক্ষা করছে। আলোচনায় নভেম্বর মাসের কয়েকটি সম্ভাব্য তারিখও রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের দুই নেতার মধ্যে একটি করমর্দন নিছক আলোকচিত্রের চেয়েও অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করবে। সেটি সম্পর্কের মোড় ঘোরানো মুহূর্তে পরিণত হবে কি না, তা আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে বেশি নির্ভর করবে দুই সরকার কী নিয়ে আলোচনা করতে, দর-কষাকষি করতে এবং বাস্তবে কী অর্জন করতে প্রস্তুত, তার ওপর। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিদিনের কোলাহল থেকে দূরে তার জীবনযাপনের ধরন ছিল তুলনামূলক শান্ত। রিচমন্ড পার্কের সবুজ বিস্তৃত পথ ধরে হাঁটা এবং ইতিহাসের বই পড়া ছিল তার পছন্দের কাজগুলোর মধ্যে। এখন প্রশ্ন হলো, নির্বাসনে অর্জিত দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের শাসন পরিচালনার কাজে কীভাবে প্রতিফলিত হবে। ড. জয়শঙ্কর আশা প্রকাশ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার ‘দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ’ দুই প্রতিবেশীর অংশীদারিত্বের বিকাশে পথ দেখাবে।
ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো এসেছিল একটি ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ব্যক্তিগতভাবে ঢাকায় এসেছিলেন। সফরকালে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ শোকবার্তা তার হাতে তুলে দেয়া হয়, যা দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করে। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই মারা যান বেগম খালেদা জিয়া। তাদের উত্তরাধিকার বিএনপির ভেতরে তারেক রহমানকে শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে। দুটি ঘটনাই ভারতের আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশের অংশ।
নির্বাচনী বিজয় ও আন্তর্জাতিক বার্তা
পরবর্তীকালে ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ ও নিশ্চিত বিজয় অর্জন করে। এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন তারেক রহমান। তার এই ক্ষমতার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর দিল্লির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। তার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জন্য গভীর আবেগের একটি মুহূর্ত। রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা একটি দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। টাইম সাময়িকীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে স্বল্পভাষী ও অন্তর্মুখী হিসেবে দেখা গেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে, যেটিকে ব্যাপকভাবে নয়াদিল্লির সঙ্গে আগের তুলনায় কম ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়।
নির্বাচনের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে কথা বলে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। প্রকাশ্য বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও বিশ্বস্তভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সর্বাত্মক সমর্থন অব্যাহত থাকবে। দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং অভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে ভারতের নেতৃত্ব। একই সঙ্গে নেতাদের ব্যক্তিগত সখ্যের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক বৈধতা ও অভিন্ন স্বার্থের প্রেক্ষাপটে সম্পর্কটিকে তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের পাশাপাশি বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ থেকেও ইতিবাচক সাড়া আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নতুন সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন জানায়, তারা নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা সুরক্ষায় একসাথে কাজ করতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী। একই সঙ্গে চীনও নতুন সংসদ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার স্পষ্ট বার্তা দেয়। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।
দীর্ঘ নির্বাসন থেকে শাসনভার গ্রহণ
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থান এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসার পথটি দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। রাজনৈতিক কারণে প্রায় ১৭ বছর তিনি বৃটেনের লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপন করেছিলেন। যে দেশের রাজপথ ও রাজনীতি তার জীবনপ্রবাহকে গড়ে তুলেছিল, সেখান থেকেই দীর্ঘদিন তাকে দূরত্ব বজায় রাখতে হয়েছে। এই নির্বাসনকালে তিনি সাধারণ জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করেছেন, বিশেষ করে সার্বক্ষণিক সরকারি প্রটোকল বা রাজনৈতিক দায়িত্বের তীব্র চাপ ছাড়াই চলাফেরার সুযোগ পেতেন। দীর্ঘ নির্বাসনের সময় তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের কিংস্টনে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমাকে নিয়ে বসবাস করেছেন। বিদেশে কাটানো বছরগুলো তাকে জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে চলা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরত্ব তৈরি করার সুযোগও দিয়েছিল।
২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে স্বদেশে ফিরে আসেন তারেক রহমান। উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক ধারায় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। তার মা দেশ পরিচালনায় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটির মূল নেতৃত্ব দেন। বিরোধী দলে থাকাকালে ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তারেক রহমান নানা সমালোচনা ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন। তবে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তার ওপর জনগণের অর্পিত দায়িত্ব পুরোপুরি বাস্তবায়নের সময় এসেছে। তখন প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে, অর্থনীতি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা তুঙ্গে। একই সঙ্গে তার কাঁধে দায়িত্বও পুরোপুরি এসে পড়েছে।
পররাষ্ট্রনীতি ও নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক নীতির মূল চালিকাশক্তি হবে দেশের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় অগ্রাধিকার। ভৌগোলিক নৈকট্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক বা বৈদেশিক নীতির সর্বাত্মক আনুগত্য নিশ্চিত করে না—ভারতের নীতিনির্ধারকদের এই বাস্তবতা উপলব্ধি করা প্রয়োজন। অপরদিকে, বাংলাদেশও তার সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে টেকসই সম্পর্ক বজায় রাখার কূটনৈতিক প্রয়োজনীয়তাকে কোনোভাবে উপেক্ষা করতে পারে না। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক কথার চেয়ে বাস্তবিক পদক্ষেপে বেশি মূল্যায়িত হবে।
নতুন হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক তৎপরতা
দিল্লির পক্ষ থেকে ঢাকা সম্পর্কের গুরুত্ব অনুধাবন করে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের পদে পেশাদার কূটনীতিকদের নিয়োগের দীর্ঘ চর্চা থাকলেও, একজন জ্যেষ্ঠ রাজনেতাকে কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো সম্পর্ককে রাজনৈতিকভাবে বাড়তি গুরুত্ব দেয়ার একটি প্রধান দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে যথেষ্ট কূটনৈতিক সংযম দেখা গেছে। সফরসূচি নিয়ে তাড়াহুড়োর চেয়ে রাজনৈতিক অনুকূল পরিবেশকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।
- বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন যে, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতেই নতুন সম্পর্কের বিনির্মাণ ঘটছে।
- নয়াদিল্লিতে সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের জন্য বেশ কিছু সূচি বিবেচনা করা হলেও সফর চূড়ান্ত হওয়ার প্রধান শর্ত হলো অনুকূল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ।
অভ্যন্তরীণ সংস্কার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্ব
নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের সার্বিক আস্থা পুনর্গঠন, প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং জননিরাপত্তা জোরদার করার ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবার, প্রান্তিক কৃষক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি রয়েছে তার এজেন্ডায়। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলটি প্রতিষ্ঠা করেছেন তার পিতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তার সামাজিক অসাম্প্রদায়িক বার্তা স্পষ্ট করেছেন। বিশেষ করে ২০ অক্টোবর রংপুরের রাধাগোবیند ধর্মসভা মন্দিরে আয়োজিত শারদীয় শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সকল ধর্মের নাগরিকদের সমান অধিকার সুনিশ্চিত থাকবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ দেশের মানুষের ইস্পাতকঠিন ঐক্যের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ধারার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিশোধের রাজনীতি দেশের কোনো উপকার করবে না বলেও তিনি যুক্তি দিয়েছেন। এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশে এই বক্তব্যগুলোর গুরুত্ব রয়েছে, যেখানে দমন-পীড়ন, কারাবাস, সহিংসতা ও রাজনৈতিক বঞ্চনার স্মৃতি এখনো তরতাজা। প্রকৃত পরীক্ষা হবে, সরকার রাজনৈতিক বহুত্ববাদ রক্ষা করে কি না, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে কি না এবং বিরোধীদের শান্ত রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে পারে কি না। এই রাজনৈতিক সংস্কার ও সহনশীলতার ভিত্তি মজবুত হলেই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক আরও স্থায়ী রূপ পাবে। এখনো সেই করমর্দনের সঙ্গে কোনো নির্ধারিত তারিখ, সম্মত সফরসূচি কিংবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিশ্চিত হয়নি।
সূত্র: মানবজমিন








