লা লিগায় টানা নয় ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়ে উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল রিয়াল মাদ্রিদ। এল ক্লাসিকোর আগে ফর্মে ফেরা রিয়াল তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ২-১ গোলের হার উপহার দিয়েছে। পুরো ম্যাচজুড়েই সফরকারী রিয়ালের দাপট দেখা গেছে, যেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। টানা ৯ ম্যাচ জিতে লা লিগার সর্বকালের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছিল। সেই রিয়াল যারা একটু দেরিতে হলেও ফর্ম ফিরে পেয়েছিল এল ক্লাসিকোর ঠিক আগে। দুটো গোলের কোনোটিকেই ধারার বিপরীতে মনে হয়নি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনা ছন্দহীন ছিল এবং সুযোগ তৈরিতে হিমশিম খাচ্ছিল। ৪১ মিনিটে রিয়ালের পাওয়া প্রথম গোলটি ছিল কিছুটা ভাগ্যদোষে। জেরার্দ মার্তিনের দুর্বল ক্লিয়ারেন্স বলের লাইনে থাকা এমবাপ্পের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল পরিশোধের একটি বড় সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন লামিন ইয়ামাল। মার্ক কুকুরেয়ার পাহারায় থাকা ইয়ামাল গোলরক্ষক আন্দ্রিই লুনিনকে সামনে পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। বার্সেলোনা গোলের সুযোগ তৈরি করতেই হিমশিম খাচ্ছিল, ঠিক তখন নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট বাকি থাকতে গোল হজমের পর ম্যাচের আর কিছু বাকি থাকে না। তবে স্কোরলাইনটা যেন ম্যাচের আসল চিত্রটাকে ঠিকঠাক তুলে ধরতে পারছে না। লামিন ইয়ামালকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন মার্ক কুকুরেয়া, সে চক্রব্যূহ ভাঙার সুযোগ যেই না একবার পেয়েছিলেন, ব্যর্থ হয়েছেন বাজেভাবে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জুড বেলিংহাম একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করলে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবে ৬১ মিনিটে পেদ্রির বাড়ানো বলে রাফিনিয়া গোল করলে সমতায় ফেরে বার্সা। এই গোলটি বেলিংহামের পায়ের ফাঁক দিয়ে লুনিনকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। এই গোলের পর বার্সার জেগে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ পাল্টা চাপে ফেলে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখে। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পেদ্রি বল বাড়ান বক্সে থাকা রাফিনিয়াকে। তাতে বার্সা রক্ষণের দায়টাই যেন বেশি।
ম্যাচের ৮৭ মিনিটে বেলিংহামের বুদ্ধিদীপ্ত সহায়তায় জয়সূচক গোলটি আসে। মাঝমাঠ থেকে বেশ কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বেলিংহাম বল বাড়িয়ে দেন উইংয়ে, সেখান থেকে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা পাউ কুবারসিকে এড়িয়ে বল দেন এমবাপ্পেকে। এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলটি নিশ্চিত করে রিয়ালের ২-১ গোলের জয়। নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট বাকি থাকতে এই গোলটি বার্সার ফেরার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে দেয়। যদিও শেষদিকে এমবাপ্পে ও বালদে আদেয়েমির হলুদ কার্ডের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, তবে রিয়াল মাদ্রিদ পূর্ণ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে।
সূত্র: যুগান্তর








