এসসিও সম্মেলনে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাল ভারত: বসছে ২০ ও ২১ নভেম্বর

প্রকাশ:

আগামী ২০ ও ২১ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিওর উদ্যোগে ‘সভ্যতাগত সংলাপ’ শীর্ষক একটি সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ আয়োজনে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচিকে এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়। আওরঙ্গজেব খান খিচি ভারতে এলে সেটা হবে প্রথম ব্যতিক্রম।

ভারতের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজস্ব পরিকল্পনায় এই সম্মেলনটি আয়োজিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে চীনের তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে তিনি প্রথম এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। এসসিওভুক্ত দেশগুলোর প্রাচীন সভ্যতা, ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে পারস্পরিক যোগাযোগ ও নির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই সম্মেলন সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে ষোড়শ শতকে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের তৈরি ঐতিহাসিক পুরোনা কেল্লায়।

এসসিওর সব সদস্যদেশকেই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে এসসিও সম্মেলনের জাতীয় কো–অর্ডিনেটর অলোক ডিমরি ইসলামাবাদ সফর করেছিলেন। গত দুই বছরে ভারত সরকারের কোনো প্রতিনিধি হিসেবে এটি ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক পাকিস্তান সফর। সেখানে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার যোগাযোগ ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এই আমন্ত্রণের ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি হয় বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তান আগামী বছর এসসিওর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। উদ্দেশ্য ছিল এসব দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক আস্থা স্থাপন করা। সীমান্তবর্তী সামরিক আস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তারে সংগঠনটি সচেষ্ট হয়।

দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জম্মু–কাশ্মীরের পেহেলগামে ২০২৫ সালের মে মাসে সশস্ত্র হামলার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে শৈত্য নেমে এসেছিল, তা এখনো বিদ্যমান। তবে বহুপক্ষীয় ফোরামের ক্ষেত্রে ভারত বরাবরই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উর্ধ্বে উঠে কাজ করার পক্ষপাতী। ২০২৩ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলওয়াল ভুট্টো গোয়ায় এসসিও সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও পাকিস্তান সাড়া দেবে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা। নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ কোথাও দুই দেশের হাইকমিশনার এখনো নিযুক্ত হননি।

এসসিও মূলত ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে চীন ও রাশিয়ার উদ্যোগে গঠিত হয়েছিল। শুরুর দিকে এটি ‘এসসিও ফাইভ’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০১ সালে উজবেকিস্তান এতে যোগ দেয়। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান একত্রে এই সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। এরপর ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টি দেশে।

দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখনো স্থিতিশীল নয় এবং আন্তসীমান্ত সন্ত্রাস নিয়ে ভারত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব। কিরগিজস্তানের বিশকেকে ২৬তম এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি সন্ত্রাসবাদকে বৈদেশিক নীতির অঙ্গ না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সাথে পাকিস্তানও ভারতের কাশ্মীর নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে সমালোচনা করে আসছে। যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদকে বৈদেশিক নীতির অঙ্গ করে ফেলেছে; অর্থ, আশ্রয়, মনোবল ও সমর্থন দিয়ে সাহায্য করে চলেছে, তাদের স্পষ্ট করে বলা উচিত, সন্ত্রাসবাদ কখনো কোনো দেশের কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না। এশিয়া ও ইউরেশিয়ার দেশগুলো এভাবেই একে অন্যের কাছাকাছি আসতে পারবে। একে অন্যকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে।

এই টানাপোড়েনের মধ্যেও এসসিও সম্মেলনের কার্যক্রমে ভারত সক্রিয় রয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানে এসসিও কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। যদিও দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়নি, তবুও বহুপক্ষীয় মঞ্চে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তান এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে কাকে প্রতিনিধি হিসেবে দিল্লিতে পাঠায়।

শেয়ার করুন