চট্টগ্রাম সফরে হেফাজত নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক ও মতবিনিময়

প্রকাশ:

গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দিয়েছিল হেফাজতে ইসলামের একটি বড় অংশ। নির্বাচনের আগেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বিজয়ী হলে তিনি হেফাজত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা করতে চট্টগ্রামে যাবেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রোববার চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফটিকছড়িতে হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের সাবেক আমীর আল্লামা আহমদ শফী ও জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী হেফাজত আমীরসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সাক্ষাতে হেফাজত নেতারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে তারা বিএনপি’র পাশে ছিলেন, ভবিষ্যতেও সরকারের সঙ্গেই থাকবেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও হেফাজতকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিনগুলোতে পথ চলার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

রোববার বিকেলে ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। সেখানে হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চান প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রায় ১০ মিনিটের একান্তে বৈঠকে হেফাজতের পক্ষ থেকে ৯ দফা লিখিত দাবি প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া হয়। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এই দাবিনামায় ইসলাম অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন পাস, ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার এবং প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

হাটহাজারীতে কবর জিয়ারত শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিগত নির্বাচনের সময় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করেছি। চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর জানান, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে হেফাজত নেতারা বিএনপি জোটকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ছাড়া হেফাজতের আমীরের নেতৃত্বে সংগঠনের অধিকাংশ নেতা এই সমর্থন দিয়েছিলেন, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানিয়েছেন।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এই সফরকে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, হেফাজত আমীর প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, নির্বাচনের আগেও তারা পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা বজায় থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও হেফাজতকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সফরটি উভয় পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে ৯টি প্রধান দাবিসহ আরও কিছু দাবি-দাওয়ার কথা অবহিত করেছেন নেতারা।

হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমানের স্বাক্ষরে লিখিত দাবিতে মহান আল্লাহ, রাসূল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস, ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধ

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, হেফাজত জামায়াতে ইসলামীর জোটের বিরুদ্ধে বিএনপি জোট সমর্থন দিয়েছে।

হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমানের স্বাক্ষরে লিখিত দাবিতে মহান আল্লাহ, রাসূল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস, ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে

শেয়ার করুন