কেবল জিপিএ-৫ কিংবা পরীক্ষায় পাসের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার উদ্দেশ্যকে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। শনিবার সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেউ পরীক্ষায় ভালো করে, কেউ খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব কিংবা অন্য কোনো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিজের প্রতিভার প্রকাশ ঘটায়।
আসলাম চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয় কেবল পাঠ্যবই মুখস্থ করে সনদ প্রদানের কারখানা নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠন, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের অন্যতম ক্ষেত্র। তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থায় ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা স্বাভাবিক হলেও, পরীক্ষার চাপ যেন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও খেলাধুলা থেকে দূরে না সরিয়ে দেয়। শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা মানুষকে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও মানবিক করে তুলবে। বিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ বাড়াতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের দক্ষতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি সুন্দর ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মূল্যবোধের পথ দেখাবেন, আর পরিবার সেই শিক্ষা ও আচরণের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। পরিবার, শিক্ষক ও সমাজ—এই তিন পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা ছাড়া কেবল পরীক্ষার ফল দিয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। স্মার্টফোন বা প্রযুক্তির ব্যবহার ও সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, তা নিয়মিত তদারকি করা জরুরি। প্রযুক্তি জ্ঞানের উৎস হলেও এর অপব্যবহার শিক্ষার্থীর মনোযোগ ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে। প্রতিটি শিশুর মেধা ও যোগ্যতার ধরণ ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি জানান, শুধু নম্বর দিয়ে শিক্ষার্থীর সক্ষমতা বিচার না করে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, স্কুল শেষে কোথায় যাচ্ছে, পড়াশোনায় কতটা মনোযোগী এবং স্মার্টফোন বা প্রযুক্তির পেছনে কতটা সময় ব্যয় করছে—এসব বিষয়ে পরিবারকে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মাহবুব ই খোদা মোর্শেদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন আকবরশাহ থানার ওসি কামরুজ্জামান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাউদুল ইসলাম, সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব খ ম নাজিম উদ্দিন, বিএনপি নেতা রায়হান উদ্দিন মুকুল ও সালামত আলী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম নয়ন।
আলোচনা পর্ব শেষে প্রধান অতিথি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে মেধা স্মারক, ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








