আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির আবেগঘন বিদায়, বেনিনের বিপক্ষে জয় ৩-০

প্রকাশ:

আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে বিদায় নিলেন লিওনেল মেসি। এস্টাডিও মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে অধিনায়ক মেসি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থের গোলে রেখেছেন অবদান। তার এই বিদায়ী ম্যাচটি যেন আর্জেন্টিনার জন্য এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকল। যে বল দিয়ে শেষ ম্যাচ খেলছেন মেসি, লেখা ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’।

ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোল অধরা ছিল। মেসি নিজেও গোল করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু তার দুটি শট আটকে দেন। ৪৩ মিনিটে মেসির নিখুঁত থ্রু বল থেকে জুলিয়ান আলভারেজ গোল করার দারুণ সুযোগ পেলেও প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক তা রুখে দেন। অন্যদিকে বেনিনও বেশ কিছু পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে গোল করার চেষ্টা করে, যেখানে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে বেশ কয়েকবার সতর্ক থাকতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়। তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। ৪৮ মিনিটে মেসির নেয়া কর্নার থেকে নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত এক ডান পায়ের শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এরপর ৬০ মিনিটে মেসি আবারও গোল করার চেষ্টা করলে বেনিন গোলরক্ষক তা ফিরিয়ে দেন। তবে ৬১ মিনিটে আর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। মেসির বাড়ানো বল থেকে নিকো পাজ বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান ২-০ করেন। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। এর এক মিনিট পর অবশ্য আর ঠেকাতে পারেননি তিনি। ফলে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০। রদ্রিগো দে পলের জায়গাতেও নিকো পাজ নামেন।

ম্যাচের ৭১ মিনিটে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়। আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের টামিমু উউরো ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন স্বয়ং মেসি। তার বাঁ পায়ের শট সরাসরি গোলপোস্টের ওপরের ডান কোণ দিয়ে জালে জড়ালে আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এই গোলের মাধ্যমেই নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজের নাম স্কোরশিটে লেখান মেসি।

ম্যাচ চলাকালীন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। ৫৯ মিনিটে নিকো পাজ, ৬০ মিনিটে নিকোলাস গনসালেস, ৭৮ মিনিটে লিওনেল ফ্লোরেস এবং ৭৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোসহ আরও বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে মাঠে নামানো হয়। বেনিনও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের শক্তি বাড়াতে দফায় দফায় খেলোয়াড় বদল করে। এই গোলের পরই মেসিকে তুলে নিয়ে নিকো পাজকে মাঠে নামান স্কালোনি।

নির্ধারিত সময়ের শেষের দিকে মেসি গোল করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। ৭৫ মিনিটে নিকো গনসালেসের ক্রস থেকে তার একটি ডান পায়ের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৮৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর সহায়তায় মেসি আবারও লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করেন, তবে বেনিনের বদলি গোলরক্ষক স্যাতুর্নিন আলাগবে তা রুখে দেন। একই মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে লিওনেল ফ্লোরেসের নেয়া শটও গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন।

ম্যাচের শেষ দিকে ৯৩ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে আর্জেন্টিনা একটি ফ্রি-কিক পায়। ৯৫ মিনিটে ম্যাচের একদম শেষ সুযোগে মেসি সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে শট নিলে বল গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই শেষ বাঁশি বাজিয়ে মাঠ ছাড়েন রেফারি। ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এস্টাডিও মনুমেন্টালের পরিবেশ হয়ে ওঠে আবেগঘন। বিউগলের করুন সুর আর ভক্তদের অশ্রুসজল চোখের বিদায়ক্ষণে বুয়েন্স আয়ার্সের রাতের আকাশে লেজার লাইটের আলোয় ফুটে ওঠে মেসির বিদায়ী দৃশ্য। সেখানে তার ১০ নাম্বার জার্সি ও বিদায়ী বার্তা প্রদর্শনের মাধ্যমে কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শেয়ার করুন