বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি কোম্পানি কাতার এনার্জি তাদের লজিস্টিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে নৌবহরে যুক্ত করেছে ‘আল নিগয়ান’ নামের একটি বিশালাকার এলএনজি ক্যারিয়ার। দক্ষিণ কোরিয়ার এইচডি হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক নির্মিত এই জাহাজটি কাতার এনার্জির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তৈরি দশটি জাহাজের সিরিজের অষ্টম ভেসেল। স্থানীয় দৈনিক আল শার্কের গত ২৬ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নর্থ ফিল্ড থেকে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই জাহাজটি বহরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার এই জাহাজটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে উন্নত প্রপালশন সিস্টেম এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে। জাহাজটির কার্গো কন্টেইনমেন্ট সিস্টেম অত্যন্ত নিরাপদ, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও অতি নিম্ন তাপমাত্রায় প্রাকৃতিক গ্যাসকে তরল অবস্থায় পরিবহন করতে সক্ষম। খুব দ্রুতই জাহাজটি তার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কাতার বর্তমানে নর্থ ফিল্ড ইস্ট এবং নর্থ ফিল্ড সাউথ সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে কাতারের বার্ষিক এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। উৎপাদিত এই বাড়তি গ্যাস বিশ্ববাজারে সাশ্রয়ী ও সময়মতো পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী ও আধুনিক জাহাজ বহর অপরিহার্য। ‘আল নিগয়ান’-এর মতো বিশালাকার ক্যারিয়ারগুলো সেই কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজস্ব ও দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ায় চালিত জাহাজের এই সুপরিসর বহর থাকার ফলে কাতার এনার্জি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কোনো ধরনের পরিবহন সংকটের মুখে পড়বে না। ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই জাহাজগুলো লাইফলাইনের মতো কাজ করছে। এই নতুন সংযোজন কাতার এনার্জির গ্লোবাল সাপ্লাই নেটওয়ার্ককে আরও নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলল।
উল্লেখ্য, এই তথ্যের উৎস হিসেবে আল শার্ক পত্রিকা এবং কাতার এনার্জি মিডিয়া সেন্টারের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
সূত্র: গালফ বাংলা








