শরীরের ওজনের ভিত্তিতে প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা প্রয়োজন?

প্রকাশ:

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রক্ত সঞ্চালন, হজম প্রক্রিয়া, পুষ্টি পরিবহন এবং কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে পানির ভূমিকা অপরিসীম। অনেকের ধারণা, প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পান করলেই যথেষ্ট। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়; বয়স, ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও রোগভেদে শরীরে পানির চাহিদা পরিবর্তিত হয়। শিশুদের শরীরে পানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে এবং তাদের শরীরে দ্রুত পানির ঘাটতি হতে পারে, তাই তাদের পর্যাপ্ত তরল ও পানি নিশ্চিত করা জরুরি। কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং খেলাধুলা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড বেশি থাকায় তাদের পানির চাহিদাও বাড়ে।

প্রাপ্তবয়স্কদের পানি পানের সূত্র

প্রাপ্তবয়স্কদের পানি পানের জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি সূত্র রয়েছে। এই সূত্র অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কতটুকু পানি খাবেন, তা নির্ভর করে তাঁর ওজনের ওপর। এতে প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ মিলিলিটার পানি পান করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন ৬০ কেজি ওজনের মানুষকে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ মিলিলিটার পানি পান করতে হবে। এটাকে লিটারে রূপান্তর করলে পরিমাণ হয় ১ দশমিক ৮ লিটার থেকে ২ দশমিক ১ লিটার। বয়স বাড়ার সঙ্গে তৃষ্ণা অনুভবের ক্ষমতা কমে যেতে পারে, ফলে অনেক সময় পানি কম খাওয়া হয়, যা পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি করে।

বিশেষ শারীরিক অবস্থায় পানির চাহিদা

  • গর্ভবতী নারীদের স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ৩০০ মিলিলিটার পানি প্রয়োজন।
  • দুগ্ধদানকারী মায়েদের দৈনিক ৭০০ থেকে ১০০০ মিলিলিটার অতিরিক্ত পানি পান করতে হবে।
  • জ্বর হলে প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে শরীরের পানির চাহিদা ১০ থেকে ১২ শতাংশ বেড়ে যায়।
  • ডায়রিয়া বা বমি হলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, তাই অতিরিক্ত পানি বা ওরস্যালাইন গ্রহণ করা জরুরি।
  • কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে পানির পরিমাণ নির্ধারণে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।

পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মাথাব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সবার পানির চাহিদা এক নয়। সুস্থ থাকতে নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পানি কম খাওয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত পানি পান করাও শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এ বিষয়ে আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের পুষ্টিবিদ ফারজানা ওয়াহাব পরামর্শ দেন যে, দৈনন্দিন কাজ ও কায়িক শ্রম অনুযায়ী পানি পানের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। বিশেষ করে গরমের সময় বা বেশি ঘাম হলে পানির প্রয়োজন স্বাভাবিকের চেয়ে আরও বেড়ে যায়। তাই শরীরের সংকেত বুঝে পানি পান করা সুস্থতার চাবিকাঠি।

শেয়ার করুন