প্রেক্ষাপট: স্বাস্থ্যকর খাবারেও বাড়তে পারে ওজন, যদি না মানেন এই নিয়ম

প্রকাশ:

অনেকেই মনে করেন অ্যাভোকাডো, মধু, বাদাম বা গ্রানোর মতো খাবারগুলো স্বাস্থ্যকর হওয়ায় এগুলো যত খুশি খাওয়া যায়। তবে কোচ কেভের মতে, এসব খাবারে ক্যালোরির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। ফলে পরিমাণের দিকে খেয়াল না রাখলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েও ওজন কমার বদলে উল্টো বেড়ে যেতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে কেবল খাবারের গুণমান নয়, বরং গ্রহণের পরিমাণের দিকেও সমান নজর দেওয়া জরুরি।

ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসের ভুল ধারণা

পেটের মেদ ঝরানোর জন্য অনেকেই কেবল সিট-আপ বা অ্যাবস ওয়ার্কআউটের ওপর ভরসা করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হাজার সিট-আপ করলেও যদি শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়, তবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয়। চর্বি কমাতে হলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। ফিটনেস জগতে ‘টোনিং’ শব্দটি জনপ্রিয় হলেও মূলত শরীর থেকে চর্বি কমে পেশি দৃশ্যমান হলেই শরীরকে টোনড দেখায়। অর্থাৎ, ফ্যাট কমানো ও মাংসপেশি গঠনের সমন্বয়েই কাঙ্ক্ষিত ফিট লুক পাওয়া যায়।

কার্ডিও বনাম ওয়েট ট্রেনিং

  • ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় অনেকেই শুধু দৌড়ানো বা কার্ডিও ব্যায়ামের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
  • কোচ কেভের মতে, দীর্ঘমেয়াদী ফ্যাট লসের জন্য ওয়েট ট্রেনিং অধিক কার্যকর।
  • মাংসপেশি শক্তিশালী হলে শরীর বিশ্রামের সময়ও বেশি ক্যালোরি খরচ করতে সক্ষম হয়।

ঘাম ঝরানো ও ওজনের স্কেল

অনেকে বেশি ঘাম ঝরানোর জন্য অতিরিক্ত গরম পোশাক পরে ব্যায়াম করেন। কোচ কেভ সতর্ক করে বলেন, ঘাম কেবল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, এটি ওয়ার্কআউট কতটা কার্যকর হয়েছে তার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়। তাই ঘাম ঝরানোর চেয়ে ফিটনেসের সামগ্রিক অগ্রগতির দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি। এছাড়া অনেক সময় শরীরের মেদ কমলেও ওজনের মেশিনে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায় না, কারণ একই সঙ্গে পেশি তৈরি হতে থাকে। তাই শুধু স্কেলের সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে শরীরের গঠন ও ফিটনেসের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

ক্যালোরি ব্যালান্স ও জীবনধারা

কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট বা স্ন্যাকস—কোনো খাবারই এককভাবে ওজন বাড়ায় না, বরং শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণই মূল সমস্যা। অনেকেই অজান্তে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেন। সবশেষে কোচ কেভ মনে করিয়ে দেন, দ্রুত ফলের পেছনে না ছুটে দীর্ঘমেয়াদী ও বাস্তবসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ ফিটনেস মানে শুধু সাময়িক ওজন কমানো নয়, বরং এমন একটি জীবনধারা তৈরি করা যা বয়স বাড়লেও শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখবে।

শেয়ার করুন