রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শেষ মুহূর্তে

প্রকাশ:

রাষ্ট্রপতি পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে অপেক্ষা করতে হবে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় পর্যন্ত। দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন এবং গত শনিবার মির্জা ফখরুল এ সংক্রান্ত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরও করেছেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে। তাই কোনো আগাম ঘোষণা না দিয়ে ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থী চূড়ান্ত করার কৌশল নিয়েছে দলটি। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ওইদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

ইতিমধ্যে বিএনপি নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। যদিও একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং যেকোনো একটি বৈধ হলেই তা গৃহীত হয়, তবুও দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয় এবং বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, তারা এই নির্বাচনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চান না। তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা উচিত ছিল, যা রাষ্ট্রপতিকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলত।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট হুইপ এবং সংসদ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সংসদ অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার ও নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সংসদীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকায় কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন না। তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ওইদিন সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের ভোটদান প্রক্রিয়া টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন চলাকালীন বা স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন নির্ধারণ করে। ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং সিইসির সভাপতিত্বে সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের সময়ও একই প্রক্রিয়ায় দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, একদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত, অন্যদিকে বিরোধী জোটের অলি আহমদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই চূড়ান্ত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী কারা।

ওই বৈঠকে সভাপতিত্বও করবেন তিনি।

গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।

যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বা একটি লিখিত সম্মতি বিবৃতি দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, গত শনিবার ওই বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল সই করেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে।

ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার চলবে।

তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন।

শেয়ার করুন