আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রেকর্ড সাফল্য: ২৫টি পুরস্কার জিতল কাতারি সিনেমা ‘সনদ’

প্রকাশ:

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের গৌরব অর্জন করেছে কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘সনদ’ (SANAD)। কাতারভিত্তিক খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার নূর আল-নাসর (Noor al-Nasr) পরিচালিত এই রূপালী পর্দার সৃষ্টিটি বৈশ্বিক অঙ্গন থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৫টি সম্মানজনক পুরষ্কার নিজের ঝুলিতে জমা করেছে। দুই সহোদরের পারস্পরিক মেলবন্ধন, রাগ-অনুরাগ এবং অদৃশ্য ভালোবাসার সুক্ষ্ম আখ্যান নিয়ে গড়ে উঠেছে এর কাহিনিচিত্র।

বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শনী

আন্তর্জাতিক চিত্রপটে ছবিটির সাফল্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। ‘সনদ’ চলচ্চিত্রটি অর্জনের ধারাবাহিকতায় একাধিক দেশে জিতেছে সম্মানজনক খেতাব

  • ইউনাইটেড কিংডমের ‘লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’-এ এটি লাভ করেছে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের শিরোপা।
  • সুইডেনে আয়োজিত ‘সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’-এ সর্বশ্রেষ্ঠ শর্ট ফিল্ম হিসেবে ভূষিত হয়েছে।
  • ইতালিতে ‘মিলানো ইন্ডি মুভি অ্যাওয়ার্ডস’-এর মঞ্চে জিতেছে সেরা চিত্রনাট্যের (Best Screenplay) পুরস্কার।

পুরস্কার জয়ের বাইরেও ছবিটি বিশ্বের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বসনিয়ার সারাভো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ (DIFF)। পাশাপাশি কাতারের নিজস্ব জনপ্রিয় ‘আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়ে দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এই নির্মাণ। লন্ডন থেকে ঢাকা: বিশ্বজুড়ে প্রশংসার জোয়ার। নিজ দেশ কাতারেও এটি জনপ্রিয় ‘আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিংভাল’-এ অফিসিয়ালি নির্বাচিত ও প্রদর্শিত হয়।

কাহিনিসংক্ষেপ ও আভিধানিক অর্থ

আরবি ভাষায় ‘সনদ’ শব্দটির মূল অর্থ দাঁড়ায় ‘আস্থা, ভরসা বা নির্ভরতার আশ্রয়স্থল’—যা দুর্দিনের চরম মুহূর্তে পাশে এসে দাঁড়ানোর প্রতীক। আখ্যানভাগে আলী ও জসিম নামের দুই ভাইয়ের জটিল আবেগের চিত্রায়ণ ঘটেছে। একটি অতি সাধারণ হাসির কৌতুক বা প্র্যাংক কীভাবে ধীরে ধীরে প্রতিশোধের খেলায় মোড় নেয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাদের আত্মিক সম্পর্ককে পরীক্ষার মুখে ফেলে, তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উত্তেজনা ও নাটకీయতায় ভরপুর এই নির্মাণটি দিনশেষে স্মরণ করিয়ে দেয়, ভাইয়ে-ভাইয়ে বিরোধ যতই থাক, সংকটে ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানোটাই মূল সত্য। হাস্যরস, টানটান উত্তেজনা এবং আবেগের মিশেলে নির্মিত চলচ্চিত্রটি তুলে ধরেছে যে ভাইয়ে-ভাইয়ে যত দ্বন্দ্বই থাকুক না কেন, বিপদের দিনে ভাইয়ের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসাই মূল স্তম্ভ।

পরিচালকের বক্তব্য ও সমাপনী কথা

সিনেমাটির অনুভূতি প্রকাশ করে কাতারি নির্মাতা নূর আল-নাসর জানান, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে ভিন্ন কোণ থেকে দেখতে পছন্দ করি। ‘সনদ’-এর মাধ্যমে আমি ভাই-বোনের পারস্পরিক রাগ-অনুরাগ ও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একে অপরকে রক্ষা করার সুপ্ত মানসিকতাটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।”

সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে পরিচালক আরও উল্লেখ করেন যে, এটি পুরো চিত্রনাট্য দল, অভিনয়শিল্পী ও ক্রু সদস্যদের যৌথ প্রচেষ্টার ফল। তিনি দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউট (DFI)-এর সার্বিক সহায়তা ও প্রত্যক্ষ সমর্থনের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যার দৌলতে গল্পটি সারা বিশ্বের অগুনতি চলচ্চিত্রপ্রেমীর হৃদয় স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে। এই অনন্য আন্তর্জাতিক প্রাপ্তি মধ্যপ্রাচ্য তথা কাতারের চলচ্চিত্র নির্মাণ শিল্প ও গল্প বলার ধারাকে বৈশ্বিক মানচিত্রে এক নতুন ও অনন্য উচ্চতায় উন্নীত করল।

শেয়ার করুন