চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন এবং উৎসব ভাতা আটকে দেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নির্দেশে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা থেকে এই অর্থ ছাড় বন্ধ রাখা হয়েছিল। টানা ১৬ দিন ধরে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে সংশ্লিষ্টরা সংহতি প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই পদক্ষেপ নেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত বুধবার শিক্ষক-কর্মকর্তাদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে ভিসি বেতন পরিশোধ করতে বাধ্য হন। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ১ হাজার ৮৭ শিক্ষক, সাড়ে পাঁচশো কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা বন্ধ করে দিলেও শেষ পর্যন্ত পরিশোধ বাধ্য হয়েছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরী। পরে বিষয়টি উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা করলে পরিশোধ করে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা এবং ৫১২ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাদের আন্দোলনের তীব্রতায় শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেতন ছাড় করতে বাধ্য হয়। চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরের মধ্যেই সবাই তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে পেরেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা উত্তোলনের ক্ষেত্রে উপাচার্যের বিশেষ অনুমোদনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এই প্রক্রিয়াটি মূলত অ্যাকাউন্টস কন্ট্রোলার এবং ডেপুটি অ্যাকাউন্টস কন্ট্রোলারের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।
এর আগে, বেতন বন্ধের নির্দেশ দিয়ে সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়েছিলেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ওই চিঠিতে তিনি চুয়েট আইন ২০০৩-এর ১৩ (৭) ধারার উল্লেখ করে দাবি করেন যে, উপাচার্যের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এই নির্দেশনা অমান্য করে টাকা ছাড় করা হলে তা বেআইনি লেনদেনে সহায়তা হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারাই বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য বকেয়া অনুমোদন করে থাকেন।
উপাচার্যের এমন অবস্থানের বিপরীতে কঠোর সমালোচনা করেছেন চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী বেতন-বোনাস পরিশোধে উপাচার্যের স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তা নেই। হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে নিয়মিত বেতন ছাড় হয়ে আসছে, যা সেপ্টেম্বরেও যথাযথ নিয়ম মেনেই জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপাচার্য সরাসরি হস্তক্ষেপ করে তা বন্ধ করে দেন।
কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ চক্রবর্তী জানান, দুর্গাপূজার ঠিক আগমুহূর্তে বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক ও কর্মচারীরা গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরামের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় এর আগেও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, কিন্তু কখনোই বেতন-ভাতা বন্ধের মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চাপে ফেলে বশ করার উদ্দেশ্যেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করছেন তারা।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








