দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান সব কূটনৈতিক সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত কলম্বিয়ার এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বোগোতা সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
চলতি বছরের ৭ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেন কলম্বিয়ার ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। তার শপথ গ্রহণের পরপরই দেশটির বৈদেশিক জোটে আমূল পরিবর্তন আসতে শুরু করে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থনের ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসা দে লা এসপ্রিয়েলা আঞ্চলিক কূটনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনের ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন।
কলম্বিয়া সরকার জানিয়েছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকেই ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি নথিতে একে ‘গোলার্ধীয় জাতীয় নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বোগোতা জানিয়েছে, ইরান সরকারের সঙ্গে কিছু ‘মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ যোগসূত্র রয়েছে, যা কলম্বিয়ার সার্বভৌমত্ব ও সুরক্ষার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনো জনসমক্ষে উপস্থাপন করেনি দেশটি। বোগোতার ভাষ্যমতে, ‘গোলার্ধীয় জাতীয় নিরাপত্তা’ সুসংহত করতেই এই নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে কলম্বিয়া। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে সরব হয়েছে বোগোতা। তবে এমন কঠোর পদক্ষেপের পরও ইরানে কনস্যুলার সেবা ও সীমিত সম্পর্ক বজায় রাখার কথা নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য যে, এই কূটনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাও বাড়ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর প্রযুক্তি হস্তগত করার অভিযোগ উঠেছে চীনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, ভারতসহ বিশ্বের ১০টি দেশকে বড় ধরনের শাস্তির আওতায় এনেছে ওয়াশিংটন। এছাড়া সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার মাঝে এ ঘটনাটি লাতিন আমেরিকার দেশটিতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দেশটিতে ধর্মীয় স্থান নিয়ে সংঘর্ষে নারীসহ ৯ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি, আস্থা কুঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে সংঘবদ্ধ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মতো সামাজিক অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সাথে অস্ট্রেলিয়া সরকার কর্তৃক জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা চালুর বিষয়টিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে। এসব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যেই কলম্বিয়ার এই নতুন পররাষ্ট্রনীতি দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: Probash Khabor








