ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ‘আয়রন গেট’ নামে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যার মূল লক্ষ্য ইরানের স্থলপথে পরিচালিত বাণিজ্য ও অস্ত্র পরিবহন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তেহরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করার পাশাপাশি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য কমিয়ে আনতে চায় ওয়াশিংটন।
সাবেক মার্কিন উপসহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয় জানিয়েছেন, এই টাস্কফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক ‘শ্বাসরোধ কৌশল’ আরও বিস্তৃত করবে। তিনি আরও জানান, সেন্টকম কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। তাদের প্রধান দায়িত্ব হবে ইরানে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের পথ চিহ্নিত করা, সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং স্থলপথ ব্যবহার করে জ্বালানি পরিবহনের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া।
মুলরয়ের মতে, সিআইএর আধাসামরিক অভিযানবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, ‘আয়রন গেট’ টাস্কফোর্সকে একটি ‘কমব্যাট্যান্ট কমান্ড’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি নির্দেশ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাত বৃদ্ধি বা নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি সংঘাত বাড়ানোর নির্দেশ দেন, তবে চিহ্নিত এই স্থাপনাগুলোই হতে পারে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সঙ্গে এই পরিকল্পনার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আগের অভিযানটি মূলত সামরিক লক্ষ্যবস্তু কেন্দ্রিক হলেও, এবারের পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং জ্বালানি পরিবহনের উৎসগুলো সরাসরি টার্গেট করা হতে পারে। মূলত ইরান সরকারকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং অর্থের জোগান দেওয়ার পথ রুদ্ধ করাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নতুন করে এ ধরনের কোনো সরাসরি সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পরিকল্পনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি দেশটির অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ভিত্তিকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার সংকেত পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








