উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে যে ১০ বিদেশি ভাষা শিখবেন

প্রকাশ:

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে ক্যারিয়ারে সফল হতে কেবল একাডেমিক ডিগ্রি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বাড়তি কিছু দক্ষতা। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিদেশি ভাষার ওপর দখল। বিশ্বায়নের এই সময়ে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে ভাষা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। নির্দিষ্ট কোনো বিদেশি ভাষা জানা থাকলে আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে একজন প্রার্থী অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকেন। উচ্চশিক্ষা কিংবা পেশাগত জীবনের নানা সুযোগ কাজে লাগাতে জনপ্রিয় ১০টি বিদেশি ভাষা ও সেগুলোর গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনা দ্বিধায় বিচরণের জন্য বিদেশি ভাষা শিক্ষা উৎকৃষ্ট হাতিয়ার। বিশ্বায়নের গতিশীলতায় বহুজাতি সংস্কৃতিগুলো পরস্পরের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সম্প্রদায়গুলো অভ্যস্ত হয়ে উঠছে একে অপরের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগে। উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ বিশ্ব নেতাদের চিহ্নিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাই করে বিভিন্নভাবে। তেমনি কয়েকটি প্রয়োজনীয় বিদেশি ভাষার কথা নিয়ে আজকের আয়োজন। এ ছাড়া বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান চীনা ভাষা শেখায়। শতকরা ৮৫ ভাগ আমেরিকান নিয়োগকর্তা স্প্যানিশকে সবচেয়ে বেশি চাহিদাযুক্ত বিদেশি ভাষা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা: ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম হতে পারে আয়ের পথ।

১. মান্দারিন: চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি ও বিশাল রপ্তানি শিল্পের কারণে মান্দারিন ভাষা এখন দারুণ চাহিদাসম্পন্ন। এটি চীন ও তাইওয়ানের ৮১০ মিলিয়নের বেশি মানুষের মাতৃভাষা। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিন্যান্স এবং লজিস্টিকস খাতে যারা কাজ করতে চান, তাদের সিভিতে মান্দারিনের দক্ষতা বাড়তি গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে। নিয়োগকর্তারা এমন লোক খোঁজেন, যাঁরা বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া ভাষাটি ইন্দোনেশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, মঙ্গোলিয়া ও ফিলিপাইনেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, হল্যান্ড, লিচেনস্টাইন, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ডেও ব্যাপকভাবে জার্মান বলা হয়।

২. জাপানিজ: বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তিগত উদ্ভাবক ও বৃহৎ অর্থনীতি জাপানের সাথে ব্যবসার প্রসারে এই ভাষা জানা আবশ্যক। ১২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের ভাষা এটি। অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিকস এবং গবেষণা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে জাপানিজ ভাষা দক্ষতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে। সুতরাং গেজেট–সম্পর্কিত যেকোনো ব্যবসার জন্য জাপানিজ ভাষা শেখা অবধারিত।

৩. জার্মান: ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে ক্যারিয়ার গড়তে হলে জার্মান ভাষা জানা অত্যন্ত জরুরি। ১০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন, যার বিস্তৃতি অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়ামসহ ইউরোপের অনেক দেশ জুড়ে। ফিন্যান্স, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে পেশাদারদের জন্য এখানে চাকরির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন ও রপ্তানিশিল্পে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগের উদ্ভব হওয়ায় মান্দারিনে দক্ষতার চাহিদা বেড়েছে। রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ম্যানুফ্যাকচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং লজিস্টিকসে চাকরির সুযোগের জন্য প্রাসঙ্গিক শিল্প-মান দক্ষতার সঙ্গে জাপানিজ ভাষা দক্ষতার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ইউরোপের অর্থনীতিতে চতুর্থ বৃহত্তম অবস্থানে রয়েছে জার্মানি।

৪. তুর্কি: বিশ্বের প্রায় ৭৭ মিলিয়ন মানুষের মাতৃভাষা তুর্কি। বলকান অঞ্চল থেকে পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত এই ভাষার প্রভাব রয়েছে। প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, পর্যটন এবং আইন পেশায় কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য তুরস্কের ভাষা ও সংস্কৃতি শেখা দারুণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৭৭ মিলিয়ন মানুষের মাতৃভাষা তুর্কি, যা একে বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি সর্বাধিক কথ্য মাতৃভাষায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। তুরস্ক ছাড়াও তুর্কিভাষী আছে বলকান, ককেশাস ও পশ্চিম ইউরোপে। পাবলিক খাতে কর্মজীবনে আগ্রহীদের জন্য কূটনীতি, বুদ্ধিমত্তা ও সামরিক ক্ষেত্রগুলোতে সক্রিয়ভাবে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

৫. স্প্যানিশ: প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন মানুষের ভাষা স্প্যানিশ ২১টি দেশের দাপ্তরিক ভাষা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তাদের একটি বড় অংশ স্প্যানিশ জানাকে কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। মূলত ব্যাংকিং, চিকিৎসা এবং বিপণন খাতে এই ভাষার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পারস্পরিক যোগাযোগের দক্ষতা শিক্ষা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে প্রত্যাশিত বিষয়।

৬. কোরিয়ান: দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারের ফলে এই ভাষার গুরুত্ব বেড়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং কে-পপ সংস্কৃতির বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এটি এখন অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই পছন্দের ভাষা। কর্মক্ষেত্রে উদ্ভাবনী শক্তির যোগান দিতে কোরিয়ান ভাষা শেখা বেশ কার্যকর।

৭. ফরাসি: আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্বরাজনীতিতে ফরাসি ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। ২৯টি দেশের প্রায় ২২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ফরাসি ভাষায় কথা বলেন। জাতিসংঘ, ন্যাটো এবং ফিফার মতো বিশ্বমানের সংস্থায় কাজের জন্য এই ভাষা জানা থাকা অনেকটা বাধ্যতামূলক।

৮. আরবি: মধ্যপ্রাচ্যের তৈল ও জ্বালানি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে আরবি ভাষার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বের ২৭টি দেশে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে বৈশ্বিক চাকরির বাজারে আরবি ভাষা আপনাকে আলাদা সুবিধা দিতে পারে। কেননা কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের কাছাকাছি পৌঁছার সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো তাদের মানুষগুলো যে ভাষায় কথা বলে, তাদের সঙ্গে সে ভাষাতেই কথা বলা।

৯. ইতালিয়ান: ফ্যাশন, ডিজাইন, চারুকলা এবং বিলাসবহুল গাড়ি শিল্পের জন্য পরিচিত ইতালির ভাষা এটি। প্রায় ৬৫ মিলিয়ন মানুষের মাতৃভাষা ইতালিয়ান। ফেরারি, ল্যাম্বোরগিনি বা আর্মানির মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোতে ক্যারিয়ার গড়তে এই ভাষার দক্ষতা বিশেষ সহায়ক।

১০. রাশিয়ান: প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মানুষ রাশিয়ান ভাষায় কথা বলেন, যার সিংহভাগ রাশিয়ায় বসবাস করেন। খনি, জ্বালানি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো প্রযুক্তিগত পেশায় রাশিয়ান ভাষার জ্ঞান বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। এছাড়া সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দেশগুলোতেও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই ভাষার দক্ষতা খুবই কার্যকরী।

শেয়ার করুন