বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম বলেছেন, দীর্ঘদিনের শোষণ, বঞ্চনা ও নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে মানুষ এখন দিশেহারা। তারা সব রাজনৈতিক দলের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিজেদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখছে। বৃহস্পতিবার ফেনী জেলা জামায়াতের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী রুকনদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি নেতাকর্মীদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান। তাই সব দল থেকে মুখ ফিরিয়ে জামায়াত এখন মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের অপর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান। কর্মশালায় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির নজরুল ইসলাম, সাবেক জেলা আমির একেএম শামছুদ্দিন, নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খোন্দকার, মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা ফারুক আহমাদ, অধ্যাপক মফিজুর রহমান ও অধ্যাপক আবু ইউছুফসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা দারসুল কোরআন পেশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মাছুম বলেন, হজরত ইব্রাহিম (আ.) যেভাবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নেতৃত্বের যোগ্যতায় নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন, একইভাবে আজ জামায়াতে ইসলামী পরীক্ষিত পথে রয়েছে। জনগণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হলে তা যেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করা যায়, সেজন্য নেতাকর্মীদের মজবুত ঈমান ও ইখলাস বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, একজন মুমিন কখনোই নিরাশ হন না, বরং দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকেন। ১৯৭১ সাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে একাত্তরকে নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়, তার সবই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। যেভাবে সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, সেভাবে আমরাও পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। এখন যদি নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব আমাদের ওপর অর্পিত হয়, আমরা যেন সেই পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে পারি। দ্বীনের কাজের ক্ষতি করে দুনিয়ার কাজে মশগুল থাকলে চলবে না। মুমিন কখনো হতাশ হবেন না, নিরাশ হবেন না কিংবা ভেঙে পড়বেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালার প্রশ্নোত্তর পর্বে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মাওলানা এটিএম মাছুম স্পষ্ট করেন যে, জুলাই সনদ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা না হলে দাবি আদায়ে রাজপথে নামার জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








