সালমান খানকে নিশানা করাই ছিল মূল পরিকল্পনা

প্রকাশ:

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার ঘটনায় তদন্তের পরিধি আরও বেড়েছে। পুলিশ বুধবার হরিয়ানার সোনিপত জেলার বড়োদা গ্রাম থেকে অঙ্কিত ওরফে রাজেশ খাটক (১৮) নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে এই মামলায় মোট আটজনকে আটক করা হলো। অভিযুক্ত অঙ্কিতকে ট্রানজিট রিমান্ডে মুম্বাই নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই ষড়যন্ত্রের মূলে ছিল লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র, যারা বিদেশে অবস্থানরত অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে পুরো পরিকল্পনাটি সাজিয়েছিল। এ ঘটনায় তদন্ত করছে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার চারজন গত মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন হরিয়ানার সোনিপত জেলার বাসিন্দা কুণাল (২১) এবং সুমিত (১৯) এবং উত্তর প্রদেশের রাধা ও ববিতা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজের চক্র পরিচালনা করেন বলে পুলিশের ধারণা। পিস্তলটি রাধার ব্যাগে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। পুলিশের অভিযোগ, প্রথমে নিজের গ্রামের বাসিন্দা ফুল সিংকে এবং পরে মুম্বাইয়ে বাইক ট্যাক্সি চালানো ঋত্বিককে এ পরিকল্পনায় যুক্ত করেন রেহান।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল অভিনেতা সালমান খান। তার বাসভবনের আশপাশে তারা দীর্ঘ সময় নজরদারিও চালিয়েছিল। কিন্তু গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা দেখে তারা লক্ষ্য পরিবর্তন করে এবং টাইগার শ্রফকে নিশানা করে। বর্তমানে সালমান খানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং তার বাসভবনের বাইরে সাবমেশিনগানধারী কমান্ডো মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে ঋত্বিকের বাড়ি বিহারের বেগুসরাইয়ে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায়। গতকাল ভোর চারটার দিকে তাঁদের মুম্বাইয়ে নিয়ে আসা হয়। ওই দিনই তাঁদের আদালতে হাজির করার কথা ছিল। তিনি জানান, হামলাকারীরা মুম্বাইয়ে আটকে পড়েছেন।

এতে অভিনেতার চালক ফিরদৌস এবং পাশে থাকা এক অটোরিকশাচালক আহত হন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পরের দিন রাজস্থানের কোটা জংশন থেকে ফুল সিং, রেহান ও ঋত্বিক নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা জয়পুর হয়ে নেপাল পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় রেহান জানিয়েছে, টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপের মাধ্যমে অনিল পণ্ডিতের সাথে তাদের যোগাযোগ ছিল। গুলিবিদ্ধ চালককে নিজেই হাসপাতালে নিলেন আহত টাইগার।

অস্ত্র সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। কুণাল ও সুমিত নামের দুই ব্যক্তি অমৃতসর থেকে একটি পিস্তল ও ২০টি কার্তুজ সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর সেই অস্ত্র মুম্বাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় রাধা ও ববিতাকে। ১৫ অক্টোবর কুণাল তাদের নয়াদিল্লি স্টেশনে পৌঁছে দেন এবং তারা ট্রেনে মুম্বাই পৌঁছান। দাদর স্টেশনে নামার পর একটি হোটেলের কাছে এক নাবালকের হাতে সেই অস্ত্র হস্তান্তর করা হয়। পুরো যাত্রাপথে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে কুণাল তাদের নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। ১৫ অক্টোবর তাঁরা ট্রেনে করে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন। সেখান থেকে তাঁরা মুম্বাইগামী ট্রেনে ওঠেন। মুম্বাইয়ে হোটেলে উঠেছিলেন দুই নারী ১৭ অক্টোবর মুম্বাইয়ে পৌঁছে দাদর রেলস্টেশনে নামেন রাধা ও ববিতা। ২০ অক্টোবর নয়াদিল্লি রেলস্টেশন থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অপরাধীরা বলিউডের একাধিক তারকার ওপর নজরদারি চালানোর জন্য স্থানীয় অটোচালকদের অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করত। তারা গুগলের সাহায্যেও তারকাদের ঠিকানার তথ্য সংগ্রহ করত। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯(১) ও ৩(৫) ধারায় খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠিত অপরাধের সাথে জড়িত থাকার দায়ে ১১১ নম্বর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। হামলা পরবর্তী সময়েও অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ে তারা। এ জন্য অটোচালকদের প্রায় এক হাজার টাকা দিয়ে তারকাদের বাড়ির আশপাশে ঘুরতেন তাঁরা। কখনো কখনো গুগলে খোঁজ করেও তারকাদের বাড়ির ঠিকানা বের করতেন। তদন্তকারীরা এখন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গতিবিধি, তাঁদের সংগ্রহ করা তথ্য এবং সম্ভাব্য নিশানার বিষয়ে খোঁজখবর করছেন।

শেয়ার করুন