ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যন্তর মন্তরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে আম আদমি পার্টির (আপ) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এরইমধ্যে পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
বিক্ষোভের কারণ ও অংশগ্রহণকারী
বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআই) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অনিয়মের দায়ভার নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা। আন্দোলনে আম আদমি পার্টির নেত্রী অতশী, সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা এবং রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিং উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা যোগ দেন।
পুলিশি বাধা ও আটক প্রক্রিয়া
- পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে বিক্ষোভে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ পাল্টা দাবি করেন, বিক্ষোভের অনুমতির জন্য প্রায় এক সপ্তাহ আগেই আবেদন করা হয়েছিল।
- পুলিশ জানায়, আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিং যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে নর্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় বাধাপ্রাপ্ত হন। পরবর্তী সময়ে সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জীব ঝাকেও আটক করা হয়।
- পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার প্রায় ৭০০ সদস্য যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের অশোক রোড এলাকায় আটকে দেওয়া হয় এবং সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিধিনিষেধ
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও যন্তর মন্তর মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া বিক্ষোভস্থলসংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








