ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভের প্রথম দিন শনিবার দিল্লি অচল হয়ে পড়েছিল। পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রাজধানীতে মানুষের অবাধ চলাচলের পথে দেওয়া সব ব্যারিকেড অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে ইন্টারনেট পরিষেবা সচল রাখা এবং মেট্রো স্টেশনগুলো খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ স্পষ্ট করে বলেছে, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে বিধিনিষেধ কেবল তখনই আরোপ করা যাবে যদি তা ‘অত্যন্ত জরুরি’ হয়। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কেবল প্রয়োজন হলেই বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, সবকিছুকে এভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া যায় না।
বিক্ষোভের নামে অরাজকতা ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ যেসব কড়াকড়ি আরোপ করেছিল, তা নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে আদালত। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ নম্বর ধারায় বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করার যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে যে, বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার থাকলেও তা অবশ্যই পুলিশ আইনের আওতাভুক্ত হতে হবে। বিচারপতি বাগচী আবেদনকারী আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীকে স্পষ্ট বলেছেন, বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার কোনোভাবেই পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩ এর ১৬৩ নম্বর ধারা—যার মাধ্যমে বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়—তা প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এর আগে গত শুক্রবার আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, যেন ১০ অক্টোবর মেট্রো ও ট্রেন চলাচলের ওপর কোনো ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ না থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে আদালত উষ্মা প্রকাশ করেছে এবং এটিকে অবমাননাকর পরিস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আবেদনকারী। আদালতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারীদের বেআইনিভাবে আটক না করারও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)-সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আগামী মঙ্গলবার নাগাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট বা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এর মাধ্যমে সরকার কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
সূত্র: মানবজমিন








