মণিপুরে নতুন করে সহিংসতায় প্রাণহানি ৯, পুড়ল ১৪ বাড়ি

প্রকাশ:

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের পার্বত্য এলাকাগুলোতে নতুন করে সংঘাতের ঘটনায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাত থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন প্রায় ১৪টি বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজ্যের শান্তি ফেরাতে করণীয় নিয়ে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং। প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মাচুংগাম্মামগ, আজিনপৌ রিংকাংমাই ও রবার্ট।

সহিংসতার সূত্রপাত হয় শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় ডমখোনেই তৌথাং নামের ৪২ বছর বয়সী এক কুকি নারী প্রাণ হারান। স্থানীয় সূত্র বলছে, ওই গ্রামে কথিত অবৈধ বাংকার সরানোর জন্য মণিপুর পুলিশ, ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন (আইআরবি) এবং বিএসএফ যৌথ অভিযান চালালে নারীরা তা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এরপর অজ্ঞাত হামলাকারীদের গুলিতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কুকি উইমেন ইউনিয়নের দাবি, চাসাদে মাইকেল এনগামমিনলেন হাওকিপ নামের ২৩ বছর বয়সী এক তরুণও নিহত হয়েছেন, যার জন্য তারা নাগা বিদ্রোহীদের অভিযুক্ত করেছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, চাসাদ গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকদের কথিত নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকের প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে পাল্টা জবাব দেয় বাহিনীর সদস্যরা। সরকারি সূত্রের ধারণা, সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কামজং জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চাসাদ থানার চারপাশের ৪০০ মিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। শনিবার ভোরে মাকুই গ্রামে আরও তিন নাগা গ্রামরক্ষী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার জন্য কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া নিংচৌ চিংডং গ্রামে শনিবার সকালে আরও দুই নাগা গ্রামরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। ওদিকে, কাংপোকপি জেলার তাপোন গ্রামে সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গিদের অতর্কিতে চালানো হামলায় এক নাগা গ্রামস্বেচ্ছাসেবক নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।

  1. নিহত মাচুংওয়াংবৌ থালোন গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
  2. আহত নাহাসন ও মাথাংগাম্বৌকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
  3. উক্ত আহতদের পরবর্তী চিকিৎসার জন্য সেনাপতি জেলার সদর দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গোলাগুলি অব্যাহত ছিল।

একই দিনে উখরুল জেলায় জাতীয় মহাসড়ক ২০২-এর কনজাং গ্রামের কাছে গাড়িযোগে যাওয়ার সময় সন্দীপ রাই নামের ৩০ বছর বয়সী এক যাত্রী দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, ইম্ফল-ডিমাপুর-গুয়াহাটি রুটে বাস চলাচল এবং জাতীয় মহাসড়ক দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল শুরু হয়েছে। তিনি ইম্ফলের আঞ্চলিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটকে (রিমস) এইমসের মর্যাদায় উন্নীত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে চলমান এ রক্তপাত ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বর্তমানে রাজ্যের শান্তি ফেরানোর পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের নাম এনগাচানসো নিংশেন (৩০) ও লেইশিশান হুংইয়ো (৫০)।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

  • সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
  • রাজনৈতিক মন্তব্য: মোদি, আপনি যা খুশি করুন, আমরা পিছু হটব না: রাহুল গান্ধী
  • রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’
  • দিল্লি পরিস্থিতি: অবরুদ্ধ দিল্লি: বন্ধ মেট্রো-রেল-ইন্টারনেট সেবা, ২০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন
  • উড্ডয়ন ঝুঁকি: ১৭ হাজার ফুট উঁচুতে বজ্রপাত, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীবাহী বিমান
  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ড্রোন হামলা ঠেকাতে পাকিস্তান পেতেছে মাছ ধরার জাল
  • সহিংসতা সংবাদ: মণিপুরে সহিংসতায় নিহত ৯, পুড়িয়ে দেওয়া হলো ১৪টি বাড়ি
  • সৌদি আরবের পরিস্থিতি: সৌদির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
  • কূটনৈতিক সফর: চারদিনের সফরে ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
শেয়ার করুন