প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা, উড়িয়ে দিলেন সব গুঞ্জন

প্রকাশ:

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রচারের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে নীরবতা পালন করছেন। যে বা যারা এই তথ্য দিয়েছে তারা উড়ো খবর দিয়েছে। সবাইকে অনুরোধ জানাবো— এই বিষয়ে আপনারা সতর্ক থাকবেন।

রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ডেকে নিয়ে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে অনলাইনে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়। গত শনিবার নিজ সংসদীয় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ায় সৃষ্ট বিতর্কের জেরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করা হয়। রোববার রাতে একাধিক পত্রিকার অনলাইনে রিপোর্ট প্রচারিত হয়। শনিবার নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেবল আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইতিপূর্বেই তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

তবে এই গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, পদত্যাগের নির্দেশের খবরটি কেবলই গুজব। এতে কোনো সত্যতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা এক প্রতিবাদ পত্রে জানান, মন্ত্রীর পদত্যাগ বা তাকে নির্দেশ দেওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করছেন এবং সরকার থেকে কোনো পদত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। শনিবারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং তার আত্মরক্ষার বিষয়টি আইনসম্মত ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সেখানে। প্রকৃত সত্য হলো, প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে পালন করে যাচ্ছেন। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এই ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগ সংক্রান্ত যে কোনো খবর ছড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।

গভীর রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো নির্দেশ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যায়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা অবশ্যই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্যের জন্য তৃতীয় বা অন্য কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। বিষয়টির সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা দূর করতে তিনি দেশবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আমার ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানানো হবে ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার করুন