যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। গত সোমবার ভোরে চালানো এই অভিযানের বিষয়টি বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র এবং সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অপরাধমূলক ঘটনার তদন্তকারী শাখা ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ (এইচএসআই) আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে এ পরোয়ানা কার্যকর করে। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আবেদনের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ডিওজের এক মুখপাত্র জানান, একটি চলমান কেন্দ্রীয় ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, তবে তদন্তের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে বিবৃতিতে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিজের আসনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার লড়াইয়ে থাকা মিনেসোটার এই আইনপ্রণেতা প্রতিনিয়তই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হয়ে আসছেন। রাজ্যটিতে ইতিমধ্যে আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং সেক্রেটারি অব স্টেটের হিসাব অনুযায়ী, ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি ভোটার ইতিমধ্যেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
এই তল্লাশি অভিযানকে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল বলে তোপ দেগেছেন ইলহান ওমর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি ঠিক আছি। কেউ যেন ভুল না বোঝে, এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন ও কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা। গত ১০ বছর ধরে ট্রাম্প আমাকে লক্ষ্য করে নানা ভিত্তিহীন মিথ্যাচার ও কুৎসা রটিয়েছেন। এটি তাঁর ভয় দেখানোর প্রচারণারই একটি অংশ। কিন্তু আমি চুপ থাকব না।’
ইলহানের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে ‘একজন ভয়ংকর ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে নিজের যুক্ততার কথা অস্বীকার করে ট্রাম্প দাবি করেন, ওমরের বাড়িতে এই তল্লাশি চালানোর পেছনে তাঁর কোনো হাত বা ভূমিকা ছিল না। অন্যদিকে, মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
উল্লেখ্য, মিনেসোটার ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে সম্প্রতি জয় পেয়েছেন ইলহান ওমর। ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার ইলহানকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ পর্যন্ত দিয়েছিলেন। তবে সব প্রতিকূলতার পরও এই প্রবীণ রাজনীতিক নিজের রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
সূত্র: প্রথম আলো








