ব্রাজিলের আমাজনে বন উজাড় কমল ৪২ শতাংশ

প্রকাশ:

ব্রাজিলের আমাজন রেইনফরেস্টে বন উজাড়ের হার নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইনপের (INPE) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে আমাজনে বন উজাড়ের হার আগের তুলনায় ৪২ শতাংশ কমেছে। ১৯৮৮ সালে স্যাটেলাইট নজরদারি শুরুর পর থেকে এটিই বন উজাড়ের সর্বনিম্ন হার। এই ফলাফল প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৮৮ সালে হিসাব রাখা শুরুর পর বন উজাড়ের হার এবার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

ইনপের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে আমাজনের ৩ হাজার ৩৩৫ বর্গকিলোমিটার বনভূমি উজাড় হয়েছে, যা প্রায় ১ হাজার ২৮৮ বর্গমাইল এলাকা। তুলনামূলকভাবে ২০১১-১২ সালে সবচেয়ে কম বন উজাড়ের আগের রেকর্ড ছিল ৪ হাজার ৫৭১ বর্গকিলোমিটার। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে বার্ষিক বন উজাড়ের হার ছিল ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি। মূলত নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধ গাছ কাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। আয়তনের হিসাবে এটি ১ হাজার ২৮৮ বর্গমাইল। আর ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বছরে প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার বনভূমি উজাড় হয়। বছরের মাঝামাঝি সময়ে মেঘের আচ্ছাদন কম থাকায় এ সময়সীমা বেছে নেওয়া হয়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে বন উজাড় ও গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো সম্ভব।

পরিবেশমন্ত্রী জোয়াও পাওলো কাপোবিয়াঙ্কো এই অর্জনকে অভাবনীয় এবং স্বপ্নের মতো বলে বর্ণনা করেছেন। জলবায়ু বিষয়ক গোষ্ঠী অবজারভাতোরিও দো ক্লিমারের প্রতিনিধি মার্সিও আস্ত্রিনি একে ঐতিহাসিক সাফল্য আখ্যা দিয়েছেন। ২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর লুলা ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধ বন উজাড় বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার পূর্বসূরি জইর বলসোনারোর চার বছরের শাসনামলে (২০১৯-২০২২) বন উজাড়ের হার আগের চার বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ছিল গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রেসিডেন্ট লুলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধ বন উজাড় পুরোপুরি বন্ধ করাই তাদের লক্ষ্য। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বলসোনারোর চার বছরের শাসনামলে আমাজনে বছরে গড়ে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি উজাড় হয়।

তবে গত চার বছরে বন উজাড়ের হার সম্মিলিতভাবে ৭১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। আমাজনের পাশাপাশি ব্রাজিলের সেরাদো তৃণভূমি অঞ্চলেও বন উজাড় ২৪ শতাংশ কমেছে। সেখানে এবারের বন উজাড়ের পরিমাণ ৫ হাজার ৫১৭ বর্গকিলোমিটার বা ২ হাজার ১৩০ বর্গমাইল, যা ২০০১ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন রেকর্ড।

আগামী ২৫ অক্টোবর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। নির্বাচনে লুলার অন্যতম এজেন্ডা হলো পরিবেশ সুরক্ষা, যা তার সমর্থকদের কাছে বড় ইতিবাচক দিক।

অন্যদিকে, ফ্লাভিও বলসোনারো তার নির্বাচনী ইশতেহারে আমাজনের নজরদারি বাড়ানোর কথা বললেও, তিনি মূলত সংগঠিত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ২০২৯ সালের মধ্যে অবৈধ বন উজাড় বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফ্লাভিও দাবি করেছেন, তিনি আমাজনের ছোট কৃষক বা শ্রমিকদের নয়, বরং অপরাধীদের লক্ষ্য করবেন। জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বনজ সম্পদ আহরণে যুক্ত শ্রমিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে অপরাধচক্রকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা তার ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ফ্লাভিওর বাবা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো বর্তমানে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন। জইর বলসোনারো অতীতে যেসব পরিবেশবাদী নীতির বিরোধিতা করেছিলেন, ফ্লাভিও সেগুলোর প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

শেয়ার করুন