মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কোণঠাসা ইসরাইল

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ওয়াশিংটনে ইসরাইলের রাজনৈতিক অবস্থান আরো দুর্বল হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশটির কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টি। নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের চরম ভরাডুবির পর দলটির অভ্যন্তরেই পরাজয়ের মূল কারণ নিয়ে তীব্র পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান দলের নেতাদের একাংশ এই পরাজয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি ও ইরানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধকে দায়ী করছেন। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে সামরিক আগ্রাসন, অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে তারা মনে করছেন।

রিপাবলিকানদের কোন্দল ও জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য

রিপাবলিকান শিবিরে নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, আমাদের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট। ভ্যান্স প্রকাশ করেন যে, এক জরিপকারী নির্বাচনে দল পরিবর্তন করে অন্য দলকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে ঠিক কী পদক্ষেপ নিলে তারা আবার রিপাবলিকান দলকে সমর্থন করবেন। সেই জরিপে অংশ নেওয়া সিংহভাগ ভোটার জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় স্বাভাবিক সীমায় নামিয়ে আনতে হবে। তবে ভোটারদের এসব দাবি এবং উদ্বেগ ছিল ট্রাম্পের প্রাথমিক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বিদেশের যুদ্ধগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা বন্ধ করা হবে এবং দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা হবে। রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে ভ্যান্স ও আল-সাইয়েদ দুই বিপরীত মেরুর মানুষ।

ইরান যুদ্ধ ও ইসরাইলি প্রভাবের অভিযোগ

রিপাবলিকান দলের অনেক নেতার স্পষ্ট ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর পেছনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের সরাসরি প্রভাব ও ভূমিকা ছিল। তাদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক হামলা চালানোর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু প্রশাসন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি প্রভাবিত করেছিল। সে সময় ইসরাইলি সরকার কোনো শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন না করেই একপাক্ষিক দাবি করেছিল যে ইরান অত্যন্ত দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ইসরাইলের সেই দাবির ওপর ভিত্তি করেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যা মার্কিন অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হানে। তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে অন্তত ৪৭ বিলিয়ন ডলার ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেটের বাইরে বাড়তি ব্যয় হিসেবে বের হয়ে যায়। একই ধরনের আরেকটি উদ্যোগে ১ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা বিক্রির বিরোধিতা করেন ৩৬ জন।

প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) চালানো এক জাতীয় জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জন মার্কিন ভোটারের মধ্যে অন্তত ৬ জন স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সম্পূর্ণ ভুল একটি পদক্ষেপ ছিল। লন্ডনের বিখ্যাত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের গবেষক অ্যান্ড্রু পেইন আলজাজিরাকে এই বিষয়ে বলেন, সাধারণ ভোটাররা হয়তো যুদ্ধের জটিল বৈশ্বিক বা ভূরাজনৈতিক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভাবেননি, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মারাত্মক ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে এই বিদেশের যুদ্ধের সরাসরি যোগসূত্র স্পষ্ট দেখতে পেয়েছেন। ইউএস-মধ্যপ্রাচ্য প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল লেভি এই প্রসঙ্গে জানান, অনেক মার্কিনী ও ডেমোক্র্যাট ভোটার মনে করেন, মূলত ইসরাইলের ইচ্ছা ও চাপেই এই অনাবশ্যক যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা ও দক্ষিণ লেবাননে দখলদারত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেক ভোটার।

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর ইতিহাস গড়া জয়

ভোটারদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইসরাইলের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের অন্ধ সমর্থন নিয়ে জমে থাকা চরম ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা গেছে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে। সেখানে নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সিনেটে বিজয়ী হওয়া প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে স্থান করে নিতে যাচ্ছেন। এই নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে জোরালো প্রচারণা চালিয়েছিল রিপাবলিকান পার্টি এবং ইসরাইলপন্থি হিসেবে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত প্রভাবশালী লবিগোষ্ঠী আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপ্যাক)। লবিগোষ্ঠীটি আল-সাইয়েদকে পরাজিত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজনৈতিক প্রচারে ঢাললেও শেষ পর্যন্ত তা কোনো কাজে আসেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইল ও তার সামরিক অভিযানের প্রতি ক্ষোভ আল-সাইয়েদের বড় জয়ে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

নির্বাচনী জয়ের পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ডেমোক্র্যাট নেতা আল-সাইয়েদ স্পষ্টভাবে বলেন, আমরা চাই না আমাদের কষ্টের উপার্জিত করের অর্থ বিদেশের জমিতে কোনো বর্ণবাদী ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে, গণহত্যা চালাতে কিংবা অন্যায্য যুদ্ধে ব্যবহৃত হোক।

তিনি আরো মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রতি কমতে থাকা রাজনৈতিক সমর্থনের দায় এখন আর দেশটির রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর না দিয়ে লবিগোষ্ঠীগুলো নেতানিয়াহু কিংবা ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মতরিচের মতো উগ্র ডানপন্থি নেতাদের ওপর চাপানোর কৌশল নিতে পারে।

অন্যদিকে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন রাজনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করেন। লাপিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলবিরোধী হিসেবে যাদের আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তাদের বড় অংশ আসলে ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরোধী নন, বরং তারা নেতানিয়াহুর চরমপন্থি নীতি ও নির্বাচনে রিপাবলিকানদের প্রকাশ্যে একপাক্ষিক সমর্থন দেওয়ার পদক্ষেপের কঠোর বিরোধী।

এআইপ্যাকের বিপুল অর্থ ব্যয় ও বড় ধরনের ধাক্কা

নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পর বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে প্রভাবশালী লবিগোষ্ঠী এআইপ্যাক দাবি করে, তাদের নিবন্ধিত সদস্যদের সমর্থন পাওয়া ২৩৪ জনের বেশি প্রার্থী বিভিন্ন পদে জয়ী হয়েছেন। এমনকি সংগঠনটি ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও হাকিম জেফরিসকে তাদের জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে এক বার্তা পোস্ট করে। এর মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের মধ্যেই ইসরাইলপন্থি লবিগোষ্ঠীটির গভীর রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রয়েছে। তবে নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে বেশ ভিন্ন এবং হতাশাজনক চিত্র ফুটে ওঠে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপত্র ‘রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট’-এর প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয় যে, এআইপ্যাকের সংযুক্ত সুপার প্যাক ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক প্রজেক্ট’ (ইউডিপি) ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক বাছাই নির্বাচনে যেসব প্রার্থীর পক্ষে অর্থ ঢেলেছিল, তাদের বড় অংশই নির্বাচনে হেরে গেছেন। গবেষণাপত্র রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইপ্যাকের সুপার পিএসি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট (ইউডিপি) এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রাজনৈতিক কমিটি বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৮ কোটি ৪১ লাখ ডলার ব্যয় করে। রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক ও সাধারণ নির্বাচন মিলিয়ে আল-সাইয়েদকে পরাজিত করতে ইউডিপি ৩ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার ব্যয় করেছে। ফলে তার ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য অনুযায়ী, আগের ২০২২ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ইউডিপির মোট রাজনৈতিক ব্যয়ের যথাক্রমে ৬৯ শতাংশ এবং ৮৭ শতাংশ অর্থ তাদের পছন্দের জয়ী প্রার্থীর প্রচারণায় কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইউডিপির শত কোটি ডলারের বাজেটের প্রায় অর্ধেক অর্থই এমন প্রার্থীদের সমর্থনে অপচয় হয়েছে, যারা শেষ পর্যন্ত মূল লড়াইয়ে বা প্রাথমিক পর্বে পরাজিত হয়েছেন। বিশেষ করে মিশিগানে ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলার খরচ করে ব্যর্থ প্রচার চালানো ছিল লবিগোষ্ঠী এআইপ্যাকের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল এবং অপমানজনক রাজনৈতিক পরাজয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন রাজনীতিতে ইসরাইলের নীতি নিয়ে যারা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে চান, সেসব উদীয়মান ডেমোক্র্যাট নেতাদের জন্য আবদুল আল-সাইয়েদের এই ঐতিহাসিক জয় একটি অনুপ্রেরণাদায়ক শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এর মধ্যে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়েছে এমন প্রার্থীদের পক্ষে, যারা শেষ পর্যন্ত হেরে গেছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে প্রতিবেদন দিতে বাধ্য করার একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ১১ জন সিনেটর। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেন ২৭ জন সিনেটর।

সামরিক সহায়তা বন্ধ ও মার্কিন নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর এখন ট্রাম্প প্রশাসনের ইসরাইলনীতির ওপর কড়া নজরদারি চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের অনেক আগেই ইসরাইলকে ঢালাও সামরিক সহায়তা দেওয়ার মারাত্মক রাজনৈতিক ক্ষতি ট্রাম্প অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তিনি ভোটের দিন এক বক্তব্যে আভাস দিয়েছিলেন যে, চলতি বছরের পর ইসরাইলকে প্রদত্ত দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহায়তার কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবছর ইসরাইলকে ৩৮০ কোটি ডলারের বিপুল সমরাস্ত্র ও আর্থিক অনুদান দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই এই চুক্তিতে কাটছাঁট করা বা শর্ত যুক্ত করার ব্যাপারে মার্কিন রাজনীতিতে চাপ বাড়ছে। বর্তমান প্রশাসন এমনভাবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক প্রযুক্তি এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কও দেশটিকে চাপ সামলে উঠতে সহায়তা করতে পারে।

  • কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তিতে ডেমোক্র্যাটরা ইসরাইলকে দেওয়া সামরিক সহায়তায় নজিরবিহীন শর্ত আরোপের নতুন বিল আনতে পারে।
  • পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গাজায় মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে মার্কিন অস্ত্রের ব্যবহার তদন্তের আইনি উদ্যোগ জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইসরাইলের কাছে সামরিক বুলডোজার বিক্রি ঠেকানোর বিলে ৪০ জন সিনেটরের সমর্থনের পর এবার বড় সমরাস্ত্র চুক্তিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
  • কংগ্রেশনাল ভোটের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কিছু বিপজ্জনক অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ আংশিক বা পুরোপুরি স্থগিত করার পথ তৈরি হতে পারে।

তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে সেটিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডেমোক্র্যাটদের যেকোনো উন্মাদ নীতিগত প্রস্তাব ঠেকিয়ে দিতে আমি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রেসিডেন্সিয়াল ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করব। তবে ড্যানিয়েল লেভি ও চ্যাথাম হাউসের গবেষক অ্যান্ড্রু পেইনের মতো জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষকরা মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের এই ভূমিধস জয় মার্কিন রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদী মেরুকরণকে স্পষ্ট করেছে। ২০২৮ সালের আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইসরাইলকে অব্যাহত সমর্থন প্রদান করার বিষয়টি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকবে, যা ওয়াশিংটনের ঐতিহ্যগত পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে। তার ভাষায়, এতে ডেমোক্র্যাটদের একটি ‘খারাপ প্রচার-যুক্তি’ আর থাকবে না।

শেয়ার করুন