মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশ:

পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পিরোজপুর সদর উপজেলা কমান্ড’-এর ব্যানারে এ আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিটিতে মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তোলেন। পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ঘিরে কী হলো, জানালেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য আবদুর রাজ্জাক সরদার জানান, ১৯৭১ সালে ভারতে সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার সময় মানিক পশারী তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। যুদ্ধের দিনগুলোতে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও গার্ড অব অনার নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁরা কয়েকটি নৌকায় একসঙ্গে দেশে ফিরেছিলেন।

পরিবারের ভাষ্যমতে, গত ৫ আগস্টের পর মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর জামাতার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। দুই মাস অসুস্থ থাকার পর গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে আনার পর শনিবার রাতে পুলিশ লাইনসে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং গভীর রাতে দাফন সম্পন্ন হয়। শোকসন্তপ্ত স্বজনদের অভিযোগ, দাফনের আগে তাঁদের মরদেহ আটকে রাখা, পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল। তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে ছিলেন।

মানববন্ধনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আহমেদ শহীদুল হক স্মৃতিচারণ করে বলেন, মরদেহ আনার পর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুষ্পমাল্য নিয়ে গেলে একদল লোক সেটি কেড়ে নেয় এবং তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলে পুলিশের সহায়তায় দাফন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে নিহতের স্বজনেরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। পরে তাঁরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানান। তারা সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যাতে আমরা চলে আসতে বাধ্য হই।

উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী ছিলেন মানিক পশারী। সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত এবং ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তিনি কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শেয়ার করুন