মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে কাতারের অর্থনীতিতে। জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির মোট রাজস্ব আয় ৪২ শতাংশ কমে গেছে। দোহায় শুরা কাউন্সিলের বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে এই তথ্য জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দেশটির অবস্থান। কোনো আপস করা হবে না: হুঁশিয়ারি কাতারের আমিরের।
আমির জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাস লাফান শিল্পনগরীর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সরাসরি হামলার ফলে দেশের রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রাস লাফানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে এলএনজি পরিবহনের প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা সরকারি কোষাগারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতার বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, চলমান যুদ্ধের জেরে চলতি বছর কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় কাতার অন্যতম। এলএনজি পরিবহনে এটাই ছিল কাতারের একমাত্র নৌপথ।
তবে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কাতার তাদের কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পগুলো থেকে সরে আসেনি। আমির নিশ্চিত করেছেন যে, বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র ‘নর্থ ফিল্ড’-এর সম্প্রসারণ কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কাতারের বার্ষিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে এক্সনমোবিলের সাথে যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন গোল্ডেন পাস এলএনজি প্রকল্পের কাজেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমির। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা থাকলেও কাতার তার জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পথে অবিচল রয়েছে।
সূত্র: গালফ বাংলা








