যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাতিল পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা

প্রকাশ:

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থগিত করা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত শনিবার এই পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী ঢাকায় এসে পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে ওএমআর শিট বিতরণের প্রায় দুই মিনিট পর হঠাৎ পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরীক্ষার্থীরা। বিশেষ করে মতিঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সাত মসজিদ রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তারা সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। যশোরের এম এম কলেজের শিক্ষার্থী ফারিয়া ফেরদৌস পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। পরীক্ষা বাতিলের পর নতুন তারিখ ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন প্রার্থীরা।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার আগের রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রার্থীদের ডেকে এনে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেয়। এতে যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার পেছনে ব্যয় করা অর্থ ও সময়ের অপচয় নিয়ে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকের মতে, এই আর্থিক ক্ষতির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। তবে অধিদপ্তর থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের কেউ কেউ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তোলেন। তাঁদের যাতায়াত, থাকা ও খাবারের খরচ কে বহন করবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নিয়োগ পরীক্ষার বাতিলের বিষয়ে পরিচালক ডি এম আতিকুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রকৃত প্রশ্নের কিছু অংশের মিল পাওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন নতুন করে ১৬ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করায় প্রার্থীদের পুনরায় প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি হয়েছে, তবে দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের নতুন ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। প্রস্তুতি নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসার পর এমন পরিস্থিতিতে পড়বেন, তা তাঁরা ভাবেননি।

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। মোট ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ প্রার্থী আবেদন করেছেন। সে হিসেবে প্রতি পদের জন্য গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতির ওপর বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছেন। সরকারি চাকরির সীমিত সুযোগ ও অধিক প্রতিযোগিতার মধ্যে এমন পরীক্ষা বাতিলের ঘটনা প্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৪২ পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ আবেদন।

শেয়ার করুন