বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, গত ১৭ বছর ধরে সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেমসেন হলের পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নিছক রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সামাজিক বন্ধন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার হীন চেষ্টা হয়েছে। অতীতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও এমন অভিযোগের নজির ছিল না, যা গত ১৭ বছরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, অতীতের শাসনামলে বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদের উত্থানের সঙ্গে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তখন এ ধরনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বর্তমানের মতো অপপ্রচার দেখা যায়নি। একে বিভাজনের মধ্যে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। মেলায় খেলনা পিস্তল, বেলুনসহ নানা জিনিস কেনার আনন্দ ছিল।
দুর্গাপূজার সর্বজনীনতার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, বগুড়ায় বাড়ির সামনে দুর্গাপূজার মেলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন তিনি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব হলেও এই আনন্দ যে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তা তার ছোটবেলার অভিজ্ঞতা থেকেই স্পষ্ট। তার মতে, দেশীয় একটি গোষ্ঠী ও তাদের আন্তর্জাতিক সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে এই সম্প্রীতির কাঠামো ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, তার বাড়ির সামনে বগুড়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বড় মেলা বসত। এ ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে একটি ধর্মের উৎসব কীভাবে অন্য ধর্মের মানুষের কাছেও আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে, তা বোঝা যায়।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশে পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বর্তমানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন দেশের সকল ধর্ম ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ নির্বিঘ্নে নিজেদের উৎসব পালন করছেন। এই উৎসবের পরিবেশ উপভোগ করতে ভারত থেকে অনেক পর্যটক বাংলাদেশে এসেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন ভিডিও ও সাক্ষাৎকারে সেসব পর্যটকদের বাংলাদেশের আনন্দমুখর পূজার পরিবেশের প্রশংসা করতে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে উৎসবের এই সর্বজনীনতা বহুদিনের।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের হাজার বছরের ভ্রাতৃত্ব ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যের কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যেন সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা আর না ঘটে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে তিনি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান। অতীতের সেই অপপ্রচারের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








