গণভোটের গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভালোবাসায় ক্ষমতায় এসে এখন যারা গণভোটের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করছেন, তাদের এই অবস্থান জনগণ মেনে নেবে না। রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চলবে এবং ক্রমান্বয়ে এই কর্মসূচি আরও কঠোর ও শক্তিশালী করা হবে। শনিবার বিকেলে খুলনার ঐতিহাসিক শিববাড়ি মোড়ে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আন্দোলনে নামার কারণ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ জাতিকে চাঁদার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য, জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার শুরু হয়েছে, এই লুটপাট ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি একটার পর একটা, শক্ত থেকে মহাশক্তের দিকে যাবে।’।
বর্তমান সরকারকে ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে তা মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন, তারা এখন ইঞ্জিনিয়ারিং করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।
৭০ শতাংশ ভোটার গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন এবং সংসদে দাঁড়িয়ে তারা সেটি মেনে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন গদি পাওয়ার পর তারা সব ভুলে গেছেন। সরকারের সমালোচনায় তিনি আরও বলেন, কেবল বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে এক থেকে আড়াই হাজার টাকা বিতরণ করে কোনো লাভ নেই, যেখানে প্রতি মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। গ্যাসের অভাব থাকলেও বিল দিতে হয় এবং বিদ্যুৎখাতে ভূতুড়ে বিলের মাধ্যমে জাতির সম্পদ ডাকাতি করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁরা বলেছেন, তাঁরা ওসব মেনে নিয়েছিলেন, ভোটটা যেন কোনো অবস্থায় বিলম্বিত না হয়। অর্থাৎ তাঁদের গদিতে বসা যেন দেরি না হয়। এটা নিয়ে হইচই হচ্ছে, আবার নিজেদের মধ্যে খাবলাখাবলি হচ্ছে। জীবন চলে যাচ্ছে, কিন্তু কৃষক তো সার পায় না। পরিষ্কার বার্তা এবার বাস্তবায়ন হবে ইনশা আল্লাহ।
সার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ডিলার নিয়োগে ২০ থেকে ৫০ লাখ এমনকি ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকরা সার পাচ্ছে না এবং ডিলারদের মধ্যে অনৈতিক লড়াই চলছে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য ও বিদেশে অর্থ পাচার রোধসহ দেশের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা দূর করার লক্ষ্যেই তাদের এই আন্দোলন। একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আগ পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। সারা দেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে। নতুন করে উনারা ডিলার নিয়োগ দিচ্ছেন ২০-২৫, ৩০ লাখ, ৫০ লাখ, ১ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে।
প্রয়োজনে এক দফার ডাক দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘর থেকে সবাইকে ঢাকায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। খুলনায় পৌঁছানোর আগে দুপুরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি মোড়ে আয়োজিত পথসভায় তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায় ছিল ‘হ্যাঁ’ পক্ষে, যা বিএনপিকে বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির সঙ্গে প্রতারণা বা গাদ্দারি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভালোয় ভালোয় রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, দাবি আদায় না হলে জনগণ পথ চিনে নেয়।
১১-দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির খুলনা আহ্বায়ক ও মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়া এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপা, লেবার পার্টি ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় বাগেরহাটের তিন আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান, শেখ মনজুরুল হক রাহাত ও অধ্যক্ষ আব্দুল আলিমসহ এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং স্থানীয় নেতারা গণভোটের দাবি জোরালো করার আহ্বান জানান। পথসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপি নেতা সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজ। পথসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপি নেতা সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ। মোরশেদ আনোয়ার সোহেলসহ ১১-দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
সূত্র: প্রথম আলো








