ম্যানচেস্টার সিটির হারে সাধারণত আনন্দ পাওয়ার কথা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সমর্থকদের। কিন্তু এবার নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের এই পরাজয়ই ইউনাইটেডকে ঠেলে দিয়েছে গভীর সংকটে। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে গতকাল রাতে সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে নটিংহাম ফরেস্ট। নটিংহামের এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় রদবদল হওয়ায় মাইকেল ক্যারিকের দল প্রথমবারের মতো অবনমন অঞ্চলে নেমে গেছে। নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভালো না চাওয়াটাই স্বাভাবিক।
চলতি মৌসুমে ৯টি ম্যাচ শেষে মাত্র ৭ পয়েন্ট নিয়ে ইউনাইটেড এখন পয়েন্ট তালিকার ১৮তম অবস্থানে রয়েছে। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের ইতিহাসে অন্তত নয়টি ম্যাচ খেলার পর অবনমন অঞ্চলে থেকে দিন শেষ করার মতো লজ্জার নজির ইউনাইটেডের ক্ষেত্রে সর্বশেষ ঘটেছিল ১৯৮৬ সালের নভেম্বরে। সেই সময় ২২ দলের লিগে ১৫ ম্যাচ শেষে তারা তালিকার ২১ নম্বরে ছিল। চার দশক পর পুনরায় এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হলো ক্লাবটিকে।
পয়েন্ট তালিকার তলানির দিকে থাকা নটিংহাম ফরেস্ট এই জয়ে ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ১৬ নম্বরে উঠে এসেছে। নটিংহামের উন্নতিতেই মূলত ইউনাইটেড তিন ধাপ নিচে নেমে গেছে। পরিস্থিতি এখানেই শেষ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে; আজ সান্ডারল্যান্ড যদি চেলসিকে হারিয়ে দেয় এবং ক্রিস্টাল প্যালেস লিভারপুলের বিপক্ষে অন্তত ড্র করে, তবে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে নামার আগেই পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে অর্থাৎ ২০ নম্বরে নেমে যেতে পারে ইউনাইটেড। বর্তমানে ৫ পয়েন্ট নিয়ে সান্ডারল্যান্ড ২০তম এবং ৭ পয়েন্ট নিয়ে ক্রিস্টাল প্যালেস ১৯তম অবস্থানে আছে। ইউনাইটেড এখন ৯ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে।
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক। গত ৩০ আগস্ট ঘরের মাঠে ইপসউইচ টাউনকে ৫-২ গোলে হারানোর পর আর কোনো জয়ের দেখা পায়নি তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত ৪০ বছরে এটিই ক্লাবটির সবচেয়ে বাজে মৌসুম শুরুর রেকর্ড। উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে এমন দুঃসময়ে কোচ রন অ্যাটকিনসনকে বরখাস্ত করে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে নিয়োগ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এবারও কোচ ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ও ছাঁটাইয়ের শঙ্কা। অবশ্য ইউনাইটেডের এমন অনবমনে সিটির হারের চেয়েও নটিংহাম ফরেস্টের জয়ের অবদানই বেশি। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। এবারও ছাঁটাইয়ের শঙ্কায় আছেন ক্যারিক। আর্জেন্টিনার ‘কসাই’ এখন ইউনাইটেডে সবচেয়ে ‘গোলমাল পাকানো লোক’।
সূত্র: প্রথম আলো








