কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার দুই বাসিন্দার মৃত্যু: শোকের ছায়া কালিগঞ্জে

প্রকাশ:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার দুই বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতের এই ঘটনায় নিহতরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছেলে আলিমুজ্জামান সাজু এবং একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকার। কোমরের তীব্র ব্যথার চিকিৎসার জন্য চার-পাঁচ দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন সাজু। চিকিৎসা শেষে বুধবারই তার দেশে ফেরার কথা ছিল।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজুর প্রতিবেশী রিয়াজুল ইসলাম জানান, সাজু ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হলেও অত্যন্ত নিরহংকারী ও পরোপকারী ছিলেন। অবিবাহিত সাজু এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে থাকতেন। তার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাজুর সহযোগী গোলাম রসুল ও স্বজনরা জানান, মাত্র দুদিন আগেই ফোনে সাজু জানিয়েছিলেন যে তার চিকিৎসা শেষ হয়েছে এবং আগামী শুক্রবার তারা একসঙ্গে জুম্মার নামাজে অংশ নেবেন। কিন্তু সেই নামাজ আর পড়া হলো না, এখন স্বজনদের একটাই দাবি, দ্রুত যেন তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

অন্যদিকে, রেবতী সরকারের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। রেবতীর স্বামী ভবেশ সরকার স্ত্রীর ভিসার কাজে বুধবার দুপুরে ঢাকায় গিয়েছিলেন, সেখানে রাতেই তিনি মৃত্যুর খবর পান। রেবতীর এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তার অকাল মৃত্যুতে প্রতিবেশীরাও গভীরভাবে শোকাহত। বর্তমানে রেবতীর বাড়িতে সুনশান নীরবতা বিরাজ করছে এবং বাড়ির বারান্দার গ্রিলে তালা ঝুলছে।

ঘটনার পর কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ উভয় পরিবারের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়া কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

শেয়ার করুন