কাতারে আটক তিন ইরানি পাইলটের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান কমিটির প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, পাইলটদের উপকূলের বাইরে পানির ওপর একটি অনুপযুক্ত স্থানে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। তিনি অবিলম্বে তাদের স্থলভাগের কোনো হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অসুস্থ ও আহতদের দ্রুত ইরানে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির মাধ্যমে কাতারে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, পাইলটদের আটকে রাখার অভিযোগ শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি জানিয়েছেন, ইরানি বিমান কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে এবং বারবার যোগাযোগের চেষ্টায় সাড়া না দিলে কাতারি বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। কাতারের দাবি, নিখোঁজ পাইলটদের সন্ধানে তারা ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। এরই মধ্যে একজন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে ইরানের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে ইরানি একটি বিশেষজ্ঞ দলকে কাতারে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এর আগে ১৬ আগস্ট বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেছিলেন যে, ঘটনাটি তদন্তে ইরানি তথ্য অনুসন্ধানী দল পাঠানোর বিষয়ে কাতার গড়িমসি করছে। যদিও কাতার সেই অভিযোগও নাকচ করে দিয়েছিল। তবে সর্বশেষ বক্তব্যে বাঘেরজাদেহ কাতারের পক্ষ থেকে ইরানি বিশেষজ্ঞদের গ্রহণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ওই দলকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য দোহার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
পাইলটদের অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইরানের নতুন এই দাবি এবং কাতারের অস্বীকারের ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পাইলটদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: গালফ বাংলা








