নিখোঁজ স্কুলছাত্রের চিরকুট: ‘কেউ আমাকে খোঁজার চেষ্টা করবে না

প্রকাশ:

মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে ইসমাইল গত ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। ২৫ আগস্ট বিকেলে বিদ্যালয়ের নিবন্ধন ফরম জমা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ আরিফুল মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের গোপালপুর ভাদুটিয়া গ্রামের মো. সামসুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার ছেলের সন্ধানে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তার বাবা।

আরিফুল বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নিজের সঙ্গে থাকা অ্যান্ড্রয়েড ও বাটন মুঠোফোনের সিম কার্ডগুলো খুলে রেখে যায়। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোনো হদিস পাননি। তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি করতে গিয়ে একটি চিরকুট উদ্ধার করে পরিবার। চিরকুটে আরিফুল লিখেছে, ‘আমার জন্য সবাই দোয়া করবে, যেন আমি যেখানে থাকি ভালো থাকি। আর কেউ আমাকে খোঁজার চেষ্টা করবে না। আমি যেখানে আছি, সেই জায়গা সম্পর্কে কারোর কোনো ধারণাই নেই।’

চিঠিতে সে আরও উল্লেখ করেছে, ‘আমার জিনিসপত্রের একটু যত্ন নিও। মা আমার ঘরটা অন্তত পরিষ্কার রাখবে। আমি মায়ের ভালো ছেলে হয়ে থাকার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি। হয়তোবা এটা আমার ব্যর্থতা।’ পরিবারের দাবি, আরিফুলের আচার-আচরণ বা পড়াশোনা নিয়ে আগে কোনো অস্বাভাবিকতা তাদের নজরে আসেনি। ছেলেটি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা। আরিফুলের বাবা সামসুল ইসলাম জানান, তার ছেলে কোথায় বা কার সঙ্গে আছে সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। দ্রুত পুলিশি সহায়তায় ছেলেকে ফিরে পেতে চান তিনি।

মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম জানান, আরিফুল অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। তার নিখোঁজের বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও মর্মাহত করেছে। এদিকে, মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, পরিবারে ছেলেটির সৎ মা রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কোনো নিগ্রহ বা বঞ্চনার কারণে কিশোরটি স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে থাকতে পারে। বর্তমানে তার অবস্থান শনাক্ত করতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন পুলিশ যদি দ্রুত তাকে খুঁজে বের করতে পারে, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিভিন্ন জায়গায়ও তাঁরা খোঁজাখুঁজি করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিখোঁজের খবর পেয়ে তাঁরাও মর্মাহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিতজনদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন