পরিবেশদূষণ রোধে করণীয়: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রবন্ধ

প্রকাশ:

আমাদের চারপাশের সবকিছু নিয়েই পরিবেশ গঠিত। আধুনিক সভ্যতায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের পরিবেশ ক্রমেই দূষণের কবলে পড়ছে। বিশ্বজুড়ে এই দূষণ আজ এক বড় উদ্বেগের কারণ। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশগুলোর।

পরিবেশের এই বিপর্যয়ের জন্য মূলত মানুষের দায়বদ্ধতার অভাবই দায়ী। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণের মতো সমস্যার সৃষ্টি করছি। আধুনিক প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ দূষণকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

পরিবেশদূষণের বিভিন্ন ধরণ ও প্রভাব

  • শব্দদূষণযানবাহন, মাইক, কলকারখানা ও বিভিন্ন যান্ত্রিক আওয়াজের মাত্রাতিরিক্ত শব্দ মাথাব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপের মতো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে।
  • বায়ুদূষণকলকারখানার নির্গত ধোঁয়া, ইটের ভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং নির্বিচারে বন উজাড় করার ফলে বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মতো ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে।
  • পানিদূষণশিল্পবর্জ্য, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও পেট্রোলিয়াম পদার্থের মিশ্রণ পানির গুণমান নষ্ট করছে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় আর্সেনিক দূষণও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • মাটিদূষণঅপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্প-আবর্জনা এবং পচনশীল নয় এমন প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার মাটির উর্বরতা ও গুণাগুণ ধ্বংস করছে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও করণীয়

  • দূষণের প্রধান কারণক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর তাড়না, বনভূমি ধ্বংস, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়নই পরিবেশ দূষণের মূল উৎস। পরিবেশ যত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, জীববৈচিত্র্য তত বেশি হুমকির মুখে পড়বে।
  • প্রতিকারের উপায়বিশ্বব্যাপী পরিবেশদূষণের ভয়াবহতা কমিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। এটি কেবল একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং বিশ্ব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
  • উপসংহারআমাদের পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই। ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে বৈশ্বিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসার বিকল্প নেই। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দূষণরোধে নিয়মিত কাজ করাই আমাদের কাম্য।

লিখেছেন: মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা।

শেয়ার করুন